নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে লেখা আছে।
বাংলাদেশের সংবিধানে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার কথা বলা হয়েছে এবং নাগরিক হিসেবে নারীকে পুরুষের পাশাপাশি সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে।
মিফতাহুল জান্নাত পেশাগত আকাঙ্ক্ষা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তার এলাকার অনেকেই মনে করে মেয়েদের প্রকৌশলী হওয়ার দরকার নেই এবং তার সহপাঠীরা তাকে কটূক্তি করে, যা নারীর পেশা নির্বাচনের স্বাধীনতা এবং শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে সামাজিক বাধা নির্দেশ করে। এটি নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য এবং বৈষম্যের একটি উদাহরণ, যেখানে নারীদের নির্দিষ্ট কিছু পেশায় সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়।
মিফতাহুল জান্নাতের মতো নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, সমাজে নারীর ভূমিকা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে প্রকৌশলের মতো পেশায় নারীদের আগ্রহকে নিরুৎসাহিত না করা হয়। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং মেয়েদের বিভিন্ন পেশায় অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করতে হবে। সরকার উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে। তৃতীয়ত, কর্মসংস্থান, বেতন বা মজুরি সব ব্যাপারেই নারী ও পুরুষ সমান সুযোগ লাভের অধিকারী—এই নীতি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। সর্বস্তরে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে। এর মাধ্যমে মিফতাহুল জান্নাতের মতো নারীরা তাদের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.