রফিকের সহপাঠী জলরং ব্যবহার করছে।
জলরং বাক্সে ছোটো ছোটো খোঁপে চারকোনা ট্যাবলেটের মতো থাকে। আলাদা আলাদা ট্যাবলেট অবস্থায়ও পাওয়া যায়। তবে টিউবের মধ্যে পেস্টের মতো অবস্থায়ও জলরং তৈরি হয়ে থাকে।
রফিক যদি জলরং ব্যবহার করে একটি প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবিতে আলোছায়ার তারতম্য দেখাতে চান, তাহলে তাকে রঙের ঘনত্ব ও স্তরবিন্যাস নিয়ে কাজ করতে হবে। জলরং স্বচ্ছ হওয়ায় পাতলা করে রং লাগালে হালকা শেড তৈরি হবে এবং একাধিক পাতলা স্তর প্রয়োগ করে ধীরে ধীরে গভীরতা বাড়ানো যাবে। যেখানে আলো বেশি, সেখানে হালকা রং বা কাগজের সাদা অংশ ধরে রাখতে হবে। যেখানে ছায়া বেশি, সেখানে গাঢ় রং বা নীল ও কালো মেশানো রং ব্যবহার করতে হবে। ভেজা কাগজের ওপর ভেজা রং লাগিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে আলোছায়ার সূক্ষ্ম তারতম্য ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।
জলরং ব্যবহারের সময় 'রাবার দিয়ে মোছামুছি না করলেই ভালো'—এই উক্তিটির তাৎপর্য হলো, জলরং স্বচ্ছ হওয়ায় কাগজের মসৃণতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাবার দিয়ে বেশি ঘষলে কাগজের মসৃণতা নষ্ট হয় এবং কাগজের তন্তু উঠে আসে। এই ঘষে দেওয়া স্থানে রং লাগালে অপ্রয়োজনীয় দাগ দেখা দিতে পারে এবং রং সমানভাবে ছড়ায় না। এর ফলে ছবির স্বচ্ছতা ও মসৃণতা নষ্ট হয় এবং ছবিটি অপরিষ্কার দেখায়। জলরং খুব সূক্ষ্মভাবে কাজ করার জন্য, কাগজের পৃষ্ঠের যেকোনো ত্রুটি ছবির চূড়ান্ত গুণমানকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই, প্রাথমিক ড্রইং হালকা পেন্সিলে করা উচিত যাতে মোছামুছির প্রয়োজন না হয়।
Class 7 › চারু ও কারুকলা › Chapter 4: ছবি আঁকার বিভিন্ন মাধ্যম › Topic: ছবি আঁকার বিভিন্ন মাধ্যম পরিচিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.