আবহাওয়া নির্ধারণে তাপমাত্রা, বায়ুর চাপ ও গতি, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ হিসাব করা হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রাকৃতিক কারণের মধ্যে মেরু অঞ্চলের বরফ অস্বাভাবিকভাবে গলে যাওয়া এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি অন্যতম।
আবহাওয়া হলো কোনো একটি অঞ্চলের এক দিন বা দিনের কোনো বিশেষ সময়ের বাতাসের তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, যা প্রতিদিন বা ঘণ্টায় ঘণ্টায় বদলাতে পারে। অন্যদিকে, জলবায়ু হলো কোনো অঞ্চলের ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় আবহাওয়া, যা দীর্ঘমেয়াদী এবং সহজে পরিবর্তন হয় না। জলবায়ু বোঝার জন্য অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত, ভূমির ঢাল, মৃত্তিকার গঠন, বনভূমির পরিমাণ ও অবস্থান প্রভৃতি নিয়ামকও গুরুত্বপূর্ণ।
জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনে মানবসৃষ্ট কারণগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। মানুষের তৈরি গ্রিনহাউস গ্যাস, যেমন কার্বন ডাইঅক্সাইড (বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প-কারখানা, যানবাহন, ইটের ভাটা থেকে উৎপন্ন), বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত মাত্রায় সঞ্চারিত হয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণ। এই উষ্ণায়ন মেরু অঞ্চলের বরফ গলাচ্ছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়াচ্ছে। এছাড়াও, ক্রমাগত বনভূমি ধ্বংসের কারণে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাচ্ছে, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বাড়াচ্ছে। এই সবই প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 6: বাংলাদেশের জলবায়ু › Topic: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ
Aligned to the NCTB national curriculum.