বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · Class 7 · Chapter 6
কামাল সাহেব একজন মৎস্যজীবী। তিনি লক্ষ্য করলেন, তার এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে স্বাদু পানির মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তিনি আরও দেখলেন, বন্যার কারণে নদী-পুকুরের পাড় উপচে পানি জনবসতিতে প্রবেশ করছে, যা মাছের বসবাসের স্থান ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই পরিবর্তনগুলো তার জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে।
মারুফ সাহেব একজন স্কুল শিক্ষক। তিনি শিক্ষার্থীদের আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য শেখাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, আবহাওয়া প্রতিদিন বদলাতে পারে, কিন্তু জলবায়ু বোঝার জন্য ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় আবহাওয়াকে বিবেচনা করতে হয়। তিনি আরও বললেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনে প্রাকৃতিক কারণ যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে মানবসৃষ্ট কারণও।
সাবিনা বেগম রাজশাহীর একজন কৃষক। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, তার এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। গত কয়েক বছর ধরে বসন্তের শেষ ও গ্রীষ্মের শুরুতে তার জমিতে পানির অভাবে সেচকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং ফসল নষ্ট হচ্ছে। তিনি জানেন যে, এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল, যার কারণে তার মতো অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
রিনা তার পাঠ্যবইয়ে পড়ল যে, বাংলাদেশে প্রতি বছরই কমবেশি বন্যা হয়। নদীগুলো হিমালয়ের বরফগলা ও উজানে বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বিপুল পানিপ্রবাহ বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বয়ে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ফেলে। এছাড়াও উজানের দেশগুলোতে অপরিকল্পিত বাঁধ ও নদীসংযোগ প্রকল্পের কারণেও বন্যার সৃষ্টি হয়।
সৈকত সাহেব তার গ্রামের বাড়ি থেকে শহরে এসেছেন। তিনি দেখলেন, শহরে শীতকাল দেরিতে আসে এবং অল্প সময়ে চলে যায়। কিন্তু গ্রামের বাড়িতে শীতকালে তাপমাত্রা অনেক নিচে নেমে যায় এবং শৈত্যপ্রবাহ দেখা দেয়। তিনি আরও দেখলেন, শহরের বাতাসে ধুলোবালি ও ধোঁয়ার পরিমাণ বেশি। এই বিষয়গুলো তাকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে ভাবিয়ে তোলে।
মিজান সাহেব তার পরিবারের সাথে সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়ে দেখলেন, সেখানকার জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে। তিনি জানতে পারলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং লবণাক্ততা বাড়ছে, যা সুন্দরবনের ইকোসিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি আরও লক্ষ্য করলেন, মানুষের অসচেতনতার কারণে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশ দূষণ করছে।
আরিফ টেলিভিশনে 'বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ' সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দেখছিল। প্রতিবেদনের প্রথম অংশে দেখানো হয় কীভাবে উত্তরাঞ্চলে কৃষি জমি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনের দ্বিতীয় অংশে দেখানো হয় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীভাবে জনজীবন ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ অঞ্চলকে অবস্থানগত কারণে প্রায়শই দুর্যোগের মোকাবিলা করতে হয়।
রহিম সাহেব সংবাদপত্রে একটি প্রতিবেদন পড়লেন। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের দক্ষিণাংশের নিম্নাঞ্চলসহ পৃথিবীর সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এই সমস্যার মূল কারণ হিসেবে বায়ুমণ্ডলে কিছু গ্যাসের অতিরিক্ত সঞ্চারণকে দায়ী করা হয়েছে, যা মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফল।
সেলিম সাহেব লক্ষ্য করলেন যে, তার এলাকার একটি বড়ো শিল্প-কারখানা থেকে প্রচুর ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে। একই সাথে তিনি জানতে পারলেন যে, তাদের শহরের চারপাশে যে বনভূমি ছিল, তা বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কেটে ফেলা হচ্ছে। তিনি চিন্তিত যে, এই দুটি কারণ কীভাবে বাংলাদেশের জলবায়ুর ওপর প্রভাব ফেলবে।
আতিক সাহেব একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। তিনি একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখলেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল ক্রমবর্ধমান বন্যার কারণে স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃপ্রণালি ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ছে। এর ফলে সেখানে ছোঁয়াচে রোগের বিস্তার লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও, তিনি লক্ষ্য করলেন যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষিজ পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
একজন গবেষক বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ ও প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছিলেন। তিনি দেখলেন যে, দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতকালে তাপমাত্রা ৪-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসে, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। আবার বর্ষাকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে নদীগুলো উপচে পড়ে জনপদকে প্লাবিত করে। তিনি এই দুটি দুর্যোগের কারণ ও মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করছেন।
ফারুক সাহেব একজন গবেষক। তিনি বাংলাদেশের জলবায়ু নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দেখতে পেলেন যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অভাব দেখা দিচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এর ফলে কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং মানুষ সুপেয় পানির অভাবে ভুগছে। তিনি আরও জানতে পারলেন যে, বিভিন্ন নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ এবং বননিধন এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
মিতা একটি সংবাদপত্রে পড়ল যে, বাংলাদেশে প্রতি বছরই কমবেশি বন্যা হয়। এর প্রধান কারণ হিসেবে হিমালয়ের বরফগলা পানি এবং উজানে বৃষ্টিপাতকে দায়ী করা হয়েছে। এছাড়াও, উজানের দেশগুলোতে অপরিকল্পিত বাঁধ ও নদীসংযোগ প্রকল্পকেও বন্যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদপত্রে আরও বলা হয়েছে যে, বন্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।
আকাশ সাহেব চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন লঞ্চে করে। পথিমধ্যে হঠাৎ উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হলো। ঝড়টি খুব অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হলেও লঞ্চটি ঢেউয়ের তোড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো এবং তার আশেপাশের অনেক গাছপালা উপড়ে পড়ল। এই ধরনের ঝড়ের কারণে প্রায়শই নৌ-চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনাও ঘটে।
সোহেল সাহেব তার স্কুল প্রকল্পের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি জানতে পারলেন, পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ অস্বাভাবিকভাবে গলে যাচ্ছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি আরও জানতে পারলেন, বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ মাত্র ১৭ ভাগ, যা বিশেষজ্ঞদের সুপারিশকৃত ২৫ ভাগের চেয়ে অনেক কম।
রহিমা বেগম তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীগুলো লক্ষ লক্ষ টন পলি বয়ে আনে, যার সবটা সাগরে যায় না, কিছু অংশ নদীর তলদেশে জমা হয়ে তাকে ভরাট করে ফেলে। এতে নদীর জলধারণ ক্ষমতা কমে যায় এবং পানি উপচে আশেপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। তার মনে হলো, এটি বন্যার একটি কারণ।
শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখছিল। সেখানে দেখানো হলো, পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাচ্ছে এবং এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রামাণ্যচিত্রে আরও দেখানো হয় যে, শিল্পোন্নত দেশগুলোর ব্যাপক জ্বালানি ব্যবহার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বনভূমি ধ্বংস এর প্রধান কারণ।
করিম সাহেব তার বাড়ির পাশে গাছ লাগিয়েছেন এবং আবহাওয়া বিভাগের সতর্কবার্তা মেনে চলেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন, বর্ষাকালে তার এলাকার নদীগুলো ভরাট হয়ে যায় এবং এর জলধারণ ক্ষমতা কমে আসে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই তার এলাকা প্লাবিত হয় এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়া, তিনি দেখেন যে, নদীর পাড়ের মাটির দুর্বল গঠনও নদীভাঙনের একটি কারণ।