হিমালয় পর্বতমালা শীতকালে বাংলাদেশকে উত্তর থেকে আসা হিমপ্রবাহ থেকে রক্ষা করে।
নদীর তলদেশে পলি জমার ফলে নদীর জলধারণ ক্ষমতা কমে যায়। এতে নদীর পানি উপচে আশেপাশের এলাকা প্লাবিত হয় এবং বন্যার সৃষ্টি হয়।
আতিক সাহেবের প্রতিবেদনে উল্লেখিত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্য খাতে সৃষ্ট প্রভাব হলো ছোঁয়াচে রোগের বিস্তার। উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল ক্রমবর্ধমান বন্যার কারণে স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃপ্রণালি ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ছে। এর ফলে সেখানে ছোঁয়াচে রোগের বিস্তার লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যার কারণে পয়ঃপ্রণালি ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে দূষিত পানি ও বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা বিভিন্ন পানিবাহিত ও ছোঁয়াচে রোগের (যেমন ডায়রিয়া, কলেরা) প্রকোপ বাড়ায় এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শিল্প খাতের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার প্রধান কারণ হলো কাঁচামালের অভাব এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি। শিল্পের প্রধান উপকরণ হলো কাঁচামাল, যার একটি বড় অংশ আসে কৃষিজ পণ্য থেকে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়, যেমন অধিক তাপমাত্রা, পরিবর্তিত বৃষ্টিপাত, বন্যা, খরা এবং জলোচ্ছ্বাসের ফলে কৃষিজ উৎপাদন কমে যায়। যখন কৃষিজ পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন শিল্প-কারখানাগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হয়। উদাহরণস্বরূপ, বন্যা বা খরার কারণে পাট উৎপাদন কমে গেলে পাট শিল্পের উৎপাদন হ্রাস পায়। এছাড়াও, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, টর্নেডো ইত্যাদি শিল্প-কারখানার অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পরিবহন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা সরাসরি শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত করে। এই সামগ্রিক প্রভাব শিল্পের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয় এবং দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 6: বাংলাদেশের জলবায়ু › Topic: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ
Aligned to the NCTB national curriculum.