বর্ষাকালে বাংলাদেশে বঙ্গোপসাগর হতে জলীয়বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়।
নদীভাঙনের দুটি কারণ হলো: ১. নদীর গতিপথের ধরন আঁকাবাঁকা হওয়া এবং পানির প্রবল স্রোত পাড়ে আঘাত করা। ২. নদীপাড়ের মাটির দুর্বল গঠন।
সাবিনা বেগমের এলাকায় সৃষ্ট দুর্যোগটি হলো 'খরা'। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজশাহীতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম এবং বসন্তের শেষ ও গ্রীষ্মের শুরুতে পানির অভাবে সেচকাজ ব্যাহত হচ্ছে ও ফসল নষ্ট হচ্ছে। খরা হলো প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাতের অভাবে ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেলে সৃষ্ট একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে, যেমন রাজশাহী, এই খরার প্রকোপ বেশি দেখা যায়, যা কৃষিকাজকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
খরাজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলো নেওয়া যেতে পারে: ১. পর্যাপ্ত বনায়ন: বেশি করে গাছ লাগানো, যা বৃষ্টিপাত বৃদ্ধিতে এবং মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ২. ভূগর্ভস্থ পানির উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ: ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পরীক্ষা করে মাটির নিচ থেকে অতিরিক্ত পানি উত্তোলন বন্ধ করা এবং বিকল্প সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। ৩. বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ: বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে রাখা (যেমন পুকুর, খাল, বিল খনন বা সংস্কার করে), যা শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। ৪. সুষ্ঠু পানিব্যবস্থাপনা: পানিব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটানো এবং পানি ব্যবহারে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা, যাতে পানির অপচয় রোধ করা যায়। ৫. পরিবেশদূষণ রোধ: বননিধন ও পরিবেশদূষণ রোধ করা, যা খরার অন্যতম কারণ। ৬. উন্নত সেচ পদ্ধতি: আধুনিক ও কার্যকর সেচ পদ্ধতি, যেমন ড্রিপ ইরিগেশন বা স্প্রিংকলার পদ্ধতি, ব্যবহার করে পানির অপচয় কমানো। এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করে খরাজনিত ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো যেতে পারে এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 6: বাংলাদেশের জলবায়ু › Topic: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ
Aligned to the NCTB national curriculum.