দেশের সকল ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের সবচেয়ে অসহায় বয়োজ্যেষ্ঠ (সর্বনিম্ন বয়স মহিলাদের ক্ষেত্রে ৬২ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর) ব্যক্তিদের প্রতিমাসে ৬৫০ টাকা হারে বয়স্ক ভাতা প্রদান করা হয়।
প্রবীণদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন হতে মুক্ত থেকে সুন্দর পরিবেশে বসবাসের অধিকার বলতে বোঝায় তাঁদের প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা, অবহেলা বা অমানবিক আচরণ থেকে সুরক্ষা এবং তাঁদের জন্য একটি শান্ত ও নিরাপদ জীবনযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
আকলিমা বেগমের সমস্যাটি সমাধানে সরকারি 'বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম' সরাসরি প্রযোজ্য হবে। তিনি ৬৯ বছর বয়সী এবং গ্রামের দরিদ্র মহিলা, তার দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই এবং তিনি অসুস্থ। এই কার্যক্রমের আওতায় তিনি প্রতিমাসে ৬৫০ টাকা হারে ভাতা পেতে পারেন, যা তাকে ঔষধপত্র কেনা এবং দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে।
আকলিমা বেগমের মতো নিঃসঙ্গ প্রবীণদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। সরকারি বয়স্ক ভাতার পাশাপাশি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন ইউনিয়ন পরিষদ) তাঁদের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারে। স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলো তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দেখাশোনা করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে পারে। প্রতিবেশীদের মধ্যে প্রবীণদের প্রতি সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচি চালানো যেতে পারে। এছাড়া, স্থানীয় পর্যায়ে ছোট আকারের ডে-কেয়ার সেন্টার বা মিলনকেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে, যেখানে প্রবীণরা একে অপরের সাথে সময় কাটাতে পারবেন এবং নিঃসঙ্গতা দূর করতে পারবেন। পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনের মতো আইনগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগের মাধ্যমেও প্রবীণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেতে পারে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: বাংলাদেশে প্রবীণদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম (বেসরকারি ও সরকারি)
Aligned to the NCTB national curriculum.