বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · Class 7 · Chapter 9
আকলিমা বেগম (৬০) সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তিনি এখন অবসর ভাতা পাচ্ছেন এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী। তার প্রতিবেশী রহিমা বেগম (৬২) একজন বিধবা, যিনি কোনো সরকারি বা বেসরকারি চাকরি করেননি এবং তার কোনো সঞ্চয় নেই। তিনি বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করেছেন।
রহিম সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। তার বয়স ৬৫ বছর। তিনি তার অবসরকালীন সময়ে গ্রামের যুবকদের জন্য একটি পাঠাগার স্থাপন করতে চান এবং সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক। কিন্তু গ্রামের কিছু যুবক মনে করে, বৃদ্ধ বয়সে তার পক্ষে এসব কাজ করা সম্ভব নয়।
জনাব শফিক একজন সরকারি কর্মচারী। তিনি ৬২ বছর বয়সে অবসর নিয়েছেন। তার স্ত্রী তার চেয়ে ২ বছরের ছোট এবং তিনিও সরকারি চাকরি করতেন। তাদের ছেলে-মেয়েরা বিদেশে থাকেন। তাদের দেখাশোনার জন্য একজন সাহায্যকারী আছেন।
করিম সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তিনি নিয়মিত পেনশন পান এবং তার স্বাস্থ্যও ভালো। কিন্তু তার স্ত্রী রিনা বেগম গৃহিণী হওয়ায় কোনো পেনশন পান না। তাদের ছেলে-মেয়েরা বিদেশে থাকেন এবং তাদের দেখাশোনার জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। রিনা বেগম প্রায়ই নিঃসঙ্গতায় ভোগেন।
হাফিজা বেগম (৭০) স্বামী মারা যাওয়ার পর নিজের চার ছেলেমেয়ের কাছে থাকেন। তার ছেলেমেয়েরা সবাই কর্মজীবী। হাফিজা বেগম প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং তার চিকিৎসা ও ঔষধের জন্য নিয়মিত অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা কেউই তার চিকিৎসার খরচ বহন করতে চায় না। তারা মনে করে, তাদের নিজেদের সংসার চালাতে গিয়েই হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে হাফিজা বেগম চরম অর্থকষ্টে ভুগছেন।
রহিমা বেগম একজন গৃহিণী। তার স্বামী তাকে বাড়ির বাইরে যেতে দেন না এবং কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তার মতামত গ্রহণ করেন না। রহিমা বেগম মনে করেন তার কোনো ব্যক্তিস্বাধীনতা নেই। তার ছোট ভাই তাকে পড়ালেখা করার জন্য উৎসাহিত করলেও তার স্বামী তাতে বাধা দেন।
আয়েশা বেগম (৬৩) সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তিনি এখন অবসর ভাতা পাচ্ছেন। তার প্রতিবেশী হাসনা বেগম (৬৪) বিধবা এবং স্বামী নিগৃহীতা। তিনি কোনো সরকারি বা বেসরকারি চাকরি করেননি। তাই তার কোনো অবসর ভাতা নেই। তিনি বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।
রিনা ও মিনা দুই বোন। রিনার বাবা তাকে উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে পাঠান, কারণ তিনি মনে করেন রিনা ভবিষ্যতে পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারবে। কিন্তু মিনা গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর তার বাবা তাকে আর স্কুলে পাঠান না, কারণ তিনি মনে করেন মেয়েদের বেশি পড়ালেখা করে লাভ নেই, তাদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া উচিত।
গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া সখিনা (৬৫) তার তিন সন্তানের উপর নির্ভরশীল। তার স্বামী অনেক বছর আগে মারা গেছেন। সখিনা প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং তার চিকিৎসার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তার সন্তানরা তাকে দেখাশোনা করতে বা তার চিকিৎসার খরচ জোগাতে আগ্রহী নয়।
আয়েশা বেগম (৭৫) একজন গ্রামীণ অসহায় ও দরিদ্র মহিলা। তার স্বামী মারা গেছেন এবং তার কোনো সন্তান নেই। তিনি বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তার প্রতিবেশী রিনা বেগম (৬২) একজন বিধবা এবং স্বামী নিগৃহীতা। তিনি নিজেও বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করেছেন।
জনাব কামাল (৬৭) একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। তিনি তার কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে বিভিন্ন সামাজিক ও আইনগত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তার প্রতিবেশী জনাব জামান (৭২) একজন অবসরপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনিও বিভিন্ন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেন।
জনাব হাসান (৫৫) সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তিনি এখন অবসর ভাতা পাচ্ছেন। তার প্রতিবেশী জনাব আলী (৬০) একজন দিনমজুর, যার কোনো সঞ্চয় নেই এবং তিনি এখন কাজ করতে অক্ষম। জনাব আলী বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করেছেন।
গ্রামের একটি ছোট পরিবারে বাস করে রিনা। সে মেধাবী ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও তার বাবা-মা তাকে উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে পাঠাতে রাজি নন। তারা মনে করেন, অল্প বয়সে রিনার বিয়ে দেওয়া উচিত এবং পুত্রসন্তানের লেখাপড়ার পেছনেই বেশি খরচ করা লাভজনক। রিনার ছোট ভাই শহরে গিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছে।
রিনা ও তার ছোট ভাই রতন একই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। রিনা ভালো ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও তার বাবা-মা মনে করেন, মেয়েরা বেশি পড়ালেখা করে কী করবে, শেষ পর্যন্ত তো অন্যের বাড়িতেই যাবে। তাই তারা রিনার পড়ালেখার পেছনে বেশি খরচ করতে চান না, কিন্তু রতনের পড়ালেখার জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেন।
জনাব রহমান সাহেব (৭৫) একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি দেশের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি তার ছেলেদের কাছ থেকে তেমন সম্মান পান না। তার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং তিনি নিঃসঙ্গ বোধ করেন। তার অবসর যাপন বা চিত্তবিনোদনের কোনো সুযোগ নেই।
শিখা (১৭) একজন মেধাবী ছাত্রী। সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চায়। কিন্তু তার বাবা-মা তাকে কম বয়সে বিয়ে দিতে আগ্রহী। তারা মনে করেন, মেয়েদের জন্য উচ্চশিক্ষা তেমন জরুরি নয়, বরং ভালো পাত্র দেখে বিয়ে দেওয়াটাই তাদের প্রধান দায়িত্ব।
মিসেস ফাহিমা (৪০) একজন কর্মজীবী মা। তার দুটি ছোট সন্তান আছে। তিনি কর্মস্থলে ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করেছেন। ছুটির পর তিনি আবার কাজে যোগদান করেছেন। তিনি মনে করেন, এই ছুটি তার ও তার সন্তানের জন্য খুবই উপকারী হয়েছে।
রহিমা বেগম (৬৫) তার স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃস্ব হয়ে পড়েন। তার কোনো সন্তান নেই এবং তিনি খুবই অসহায়। পাশের বাড়ির একজন তাকে বিধবা ভাতা কার্যক্রমের কথা জানায়। তিনি এই ভাতা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পান।
রিনা তার পরিবারে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের প্রতি সমানভাবে যত্নশীল। সে ছেলে-মেয়ে উভয়কেই ভালো স্কুলে লেখাপড়া করার সুযোগ দিয়েছে এবং তাদের মতামতের গুরুত্ব দেয়। তার প্রতিবেশী জাহিদের পরিবারে কিন্তু এর উল্টো চিত্র দেখা যায়। জাহিদ তার ছেলেকে উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে পাঠালেও মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়, কারণ সে মনে করে মেয়েরা পরের ঘরে চলে যাবে এবং তাদের পেছনে অর্থ খরচ করা বৃথা।
আজকাল সমাজে দেখা যায়, অনেক পরিবারে পুত্রসন্তানকে কন্যাসন্তানের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুত্রসন্তানের লেখাপড়া ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য যতটা খরচ করা হয়, কন্যাসন্তানের ক্ষেত্রে ততটা করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে কন্যাসন্তান ভালো ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও তাকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়।
গ্রামের একটি পরিবারে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। বাবা-মা ছেলে সন্তানের লেখাপড়ার জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেন, কিন্তু মেয়ে সন্তানের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে তারা উদাসীন। তারা মনে করেন মেয়েকে বিয়ে দিতে টাকা খরচ করতে হবে, তাই তার উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন নেই।
জনাব কামাল সাহেব সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর সঞ্চিত অর্থ তেমন ছিল না। তাঁর ছেলে-মেয়েরা তাঁর দেখাশোনা করতে পারছিল না। এই অবস্থায় তিনি অনুভব করেন, তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য কিছু পরিচর্যা প্রয়োজন।
মিতু একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। সে খুব ভালো ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও তার বাবা-মা তাকে উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে পাঠাননি, কারণ তারা মনে করেন মেয়েদের বেশি লেখাপড়া করে লাভ নেই। মিতু দেখে, তার পুরুষ সহকর্মীরা একই পদে বেশি বেতন পায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মিসেস আয়েশা একজন গৃহিণী। তিনি তার সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। কিন্তু তার স্বামী মনে করেন, মেয়েদের উচ্চশিক্ষা লাভ করে লাভ নেই, কারণ শেষ পর্যন্ত তাদের বিয়ে হয়ে স্বামীর বাড়িতেই যেতে হবে। তাই তিনি ছেলের লেখাপড়ার পেছনে বেশি অর্থ খরচ করেন এবং মেয়ের জন্য কম।
রোজিনা তার স্বামীকে ছেলেমেয়েদের জন্য খেলনা আনতে বলেন। বাজার থেকে তার স্বামী ছেলের জন্য ক্রিকেট বল ও ব্যাট এবং মেয়ের জন্য পুতুল ও হাঁড়ি-পাতিল কিনে আনলেন।
হাফিজার সংসার স্বামী এবং তিন সন্তান নিয়ে। স্বামীর একক আয়ে তার সংসার চলে না। সংসারের অভাব পূরণে হাফিজা নির্মাণ শ্রমিকের কাজ নেয়। সপ্তাহ শেষে মজুরি গ্রহণের সময় মালিক তাকে দৈনিক ৬০০ টাকা হারে মজুরি দেয়। অথচ একই কাজের জন্য পুরুষ শ্রমিকদের ৮০০ টাকা হারে দৈনিক মজুরি দেয়। সে এর প্রতিবাদ করলে মালিক তাকে কাজে আসতে নিষেধ করে।
রহিমা বেগম (৭২) একজন বিধবা মহিলা। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন। তার ছেলে-মেয়েরা তাকে ঠিকমতো দেখাশোনা করে না। তিনি শুনেছেন সরকার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের জন্য ভাতা প্রদান করে।
মিতু (৭) একটি সরকারি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তার বাবা-মা মনে করেন, মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে কম বুদ্ধিমতী এবং তাদের জন্য উচ্চশিক্ষা প্রয়োজন নেই। তাই তারা মিতুকে প্রাথমিক শিক্ষার পর আর পড়াতে চান না।
আকলিমা বেগম (৬৯) গ্রামের একজন দরিদ্র মহিলা। তার পরিবারে কেউ নেই তার দেখাশোনা করার জন্য। তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ কিনতে পারেন না।
রিনা (২৫) একজন মেধাবী ছাত্রী। সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের বাইরে যেতে চায়। কিন্তু তার পরিবার তাকে বিয়ে দিয়ে দিতে চায়, কারণ তারা মনে করে মেয়েদের জন্য উচ্চশিক্ষা অর্থহীন।
রহিম সাহেব সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর এক বিশাল অঙ্কের টাকা পান। তিনি তার অবসরকালীন জীবন আরাম-আয়েশে কাটাতে চান। কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা তার সঞ্চিত অর্থের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণের জন্য তার উপর চাপ সৃষ্টি করে। ফলে রহিম সাহেব তার ইচ্ছেমতো জীবনযাপন করতে পারছেন না এবং মানসিক চাপে ভুগছেন।
লামিয়া অষ্টম শ্রেণির একজন মেধাবী ছাত্রী। সে ভালো ফলাফল করা সত্ত্বেও তার পরিবার তাকে উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে পাঠাতে রাজি নয়। তারা মনে করে মেয়েদের বেশি পড়ালেখা করে লাভ নেই, বরং অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া উচিত। লামিয়ার ছোট ভাই শুভকে উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে তার পরিবার।
আবিরের মা (৬৫) একজন গৃহিণী। আবিরের বাবা নেই। আবির তার মায়ের দেখাশোনা করতে চায়, কিন্তু তার স্ত্রী এতে রাজি নয়। আবিরের স্ত্রী মনে করে বৃদ্ধ মা তাদের জন্য বোঝা।
করিম সাহেব (৬৭) তার পরিবারের সাথে থাকেন। তার ছেলে ও ছেলের বউ দুজনেই কর্মজীবী। তাদের ব্যস্ততার কারণে করিম সাহেবের সাথে গল্প করার বা তাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো কেউ নেই। এতে তিনি প্রায়শই নিঃসঙ্গ ও বিমর্ষ বোধ করেন। অন্যদিকে, তার নাতি-নাতনিদের স্কুলে পৌঁছানো এবং বাজারঘাটের দায়িত্ব তাকেই পালন করতে হয়, যা এই বয়সে তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
মিনা (১৭) একজন ভালো ছাত্রী। তার ইচ্ছে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ডাক্তার হওয়া। কিন্তু তার বাবা-মা তাকে মাধ্যমিকের পর বিয়ে দিতে চান, কারণ তারা মনে করেন মেয়েদের জন্য উচ্চশিক্ষা অপ্রয়োজনীয় এবং বিয়ের পর তারা শ্বশুরবাড়ি চলে যাবে।
হাফিজা বেগম (৫৫) একজন কর্মজীবী নারী। তার স্বামী সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। হাফিজা বেগম তার চাকরি থেকে অবসরের পর কীভাবে জীবনযাপন করবেন তা নিয়ে চিন্তিত। তিনি শুনেছেন, সরকার প্রবীণদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
রিনা বেগম একজন সরকারি কর্মকর্তা। সম্প্রতি তিনি ৫৯ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেছেন। অবসরের পর তিনি নিয়মিত অবসর ভাতা পাচ্ছেন, যা তাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী থাকতে সাহায্য করছে। তার তিন সন্তান তার সাথে থাকলেও তারা তাদের কর্মজীবনের ব্যস্ততার কারণে তাকে খুব বেশি সময় দিতে পারে না। রিনা বেগম চান সমাজে প্রবীণদের জন্য আরও বেশি বিনোদন ও সামাজিক কার্যক্রম থাকুক, যেখানে তারা নিজেদের মতো করে সময় কাটাতে পারবেন।
রহিম সাহেব ও তার স্ত্রী তাদের পুত্রসন্তানকে উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে পাঠান, কিন্তু তাদের কন্যাসন্তানকে গ্রামের স্কুলেই প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর বিয়ে দিয়ে দেন। তারা মনে করেন, পুত্রসন্তান বড় হয়ে তাদের দেখাশোনা করবে, আর কন্যাসন্তান বিয়ের পর স্বামীর ঘরে চলে যাবে। তাদের এই মনোভাবের কারণে কন্যাসন্তান তার শিক্ষা লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
৭০ বছর বয়স্ক জনাব রহমান সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তিনি তার সন্তানদের সাথে থাকেন। তার ছেলেমেয়েরা কর্মজীবী হওয়ায় তাকে দেখাশোনা করার জন্য একজন গৃহকর্মী রাখা হয়েছে। গৃহকর্মী তাকে ঠিকমতো খাবার দেয় না এবং তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। রহমান সাহেব মনে মনে কষ্ট পান কিন্তু কাউকে কিছু বলতে পারেন না।
জনাব হাবিব সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী। তার বয়স ৬৮ বছর। তিনি তার অবসরকালীন সময়ে নতুন কিছু শিখতে চান এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। তিনি মনে করেন, প্রবীণদের জন্যও যথাযোগ্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের অধিকার থাকা উচিত।
হাফিজার স্বামী এবং তিন সন্তান নিয়ে তার সংসার। স্বামীর একক আয়ে সংসার চলে না। সংসারের অভাব পূরণে হাফিজা নির্মাণ শ্রমিকের কাজ নেয়। সপ্তাহ শেষে মজুরি গ্রহণের সময় মালিক তাকে দৈনিক ৬০০ টাকা হারে মজুরি দেয়। অথচ একই কাজের জন্য পুরুষ শ্রমিকদের ৮০০ টাকা হারে দৈনিক মজুরি দেয়। সে এর প্রতিবাদ করলে মালিক তাকে কাজে আসতে নিষেধ করে।
মিঃ রহমান সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর একাকী জীবনযাপন করছিলেন। তার স্ত্রী বহু বছর আগে মারা গেছেন এবং ছেলেমেয়েরা সবাই কর্মব্যস্ত। তিনি প্রায়ই নিঃসঙ্গ বোধ করতেন এবং তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঔষধপত্র কেনার সামর্থ্যও ছিল না। তার প্রতিবেশী জনাব করিম তাকে সরকারি বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমের কথা বলেন এবং আবেদন করতে সাহায্য করেন।
জনাব কামরুল সাহেবের বয়স ৬৫ বছর। তিনি তার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। বর্তমানে তার কোনো সঞ্চয় নেই এবং তিনি তার ছেলেমেয়ের উপর নির্ভরশীল। তার ছেলেমেয়েরা তাকে দেখাশোনা করলেও, তিনি মাঝে মাঝে মনে করেন যে তিনি পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে গেছেন। তার নাতনি প্রায়ই তার সাথে গল্প করতে আসে, কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা তাদের কর্মব্যস্ততার কারণে তার সাথে সময় দিতে পারে না।
রহিমা খাতুন গ্রামে বাস করেন। তার স্বামী মারা গেছেন এবং তিনি তার একমাত্র মেয়ের উপর নির্ভরশীল। মেয়েটি শহরে চাকরি করে এবং প্রতি মাসে রহিমা খাতুনকে কিছু টাকা পাঠায়। কিন্তু এই টাকা দিয়ে তার ঔষধপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। গ্রামের চেয়ারম্যান তাকে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করতে উৎসাহিত করেন।
ফারজানা একজন মেধাবী ছাত্রী। সে ভালো ফল করা সত্ত্বেও তার বাবা-মা তাকে উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে পাঠাতে রাজি নন। তারা মনে করেন, মেয়েদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে চাকরি করার দরকার নেই, বরং অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া উচিত। ফারজানার ছোট ভাই অবশ্য উচ্চশিক্ষার জন্য সব ধরনের সুযোগ পাচ্ছে।
জনাব কামাল সাহেব তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে পরিবারের বোঝা মনে করেন। তিনি মনে করেন, তাদের দেখাশোনা করা তার জন্য একটি অতিরিক্ত দায়িত্ব। তার স্ত্রীও তার সাথে একমত এবং তারা দুজনেই চান যে বাবা-মা কোনো বৃদ্ধ নিবাসে চলে যান।