বাংলাদেশের প্রধান তিনটি নদী হলো পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা।
বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পায় এবং প্রবল স্রোত সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের অনেক নদীর গতিপথ আঁকাবাঁকা হওয়ায় পানির প্রবল স্রোত সোজাপথে প্রবাহিত হতে না পেরে নদীর পাড়ে এসে আঘাত করে, ফলে নদীর পাড় ভাঙতে থাকে এবং নদীভাঙনের পরিমাণ বেড়ে যায়।
বাংলাদেশে বন্যা হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো: প্রধান নদীগুলোর উৎস ভারতে হওয়ায় হিমালয়ের বরফগলা ও উজানে বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বিপুল পানিপ্রবাহ বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে ফেলা। বৃষ্টির পানি ও পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি একসঙ্গে মিলে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি করে পাড়ে উপচে জনপদকে প্লাবিত করে। এছাড়া উজানের দেশগুলোতে অপরিকল্পিত বাঁধ ও নদীসংযোগ প্রকল্পের কারণেও বন্যার সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীর তলদেশে পলি জমা হয়ে জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়াও বন্যার একটি কারণ।
বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বাঁধ নির্মাণ করা, ঘরবাড়ির ভিটা উঁচু করা, নিয়মিত নদী খননের ব্যবস্থা করা যাতে নদীর জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও, ভারতের সাথে অভিন্ন নদীগুলোর পানির হিস্যা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যা একেবারে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো সম্ভব।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 6: বাংলাদেশের জলবায়ু › Topic: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ
Aligned to the NCTB national curriculum.