বস্তু বা বিষয় অঙ্কনের সময় দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা, তার সুষমতা দেখার অনুপাত এবং তার যথার্থ স্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করতে হয়।
সঠিকভাবে অঙ্কন করলে অর্থাৎ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা, সুষমতা দেখার অনুপাত এবং যথার্থ স্থাপনা ইত্যাদি বিষয়সমূহ ঠিক রেখে অঙ্কন করলে তার একটি সুন্দর প্রকাশ অবশ্যই ফুটে উঠবে।
একটি কাপ অঙ্কনের সময় দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা ও অনুপাতের যথার্থতা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমে কাপের সামগ্রিক আকার এবং তার বিভিন্ন অংশের অনুপাত সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। কাপের উচ্চতা তার মুখের প্রস্থের সাথে কেমন, হাতলের আকার কাপের দেহের সাথে কেমন—এসব অনুপাত ঠিক রাখতে হবে। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের সঠিক পরিমাপের জন্য কাপের ভিত্তি এবং উপরের অংশের পরিধি সঠিকভাবে আঁকতে হবে। ত্রিমাত্রিক প্রভাবের জন্য উচ্চতা বোঝাতে হালকা শেডিং বা রেখা ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব বিষয় সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগ করলে কাপটি বাস্তবসম্মত ও সুষম দেখাবে।
দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা এবং অনুপাতের যথার্থতা একটি বাস্তবধর্মী চিত্রাঙ্কনে গভীরতা ও ত্রিমাত্রিকতা প্রদানে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ একটি বস্তুর সমতলীয় মাত্রা নির্ধারণ করে, কিন্তু উচ্চতা যোগ করলে বস্তুটি ত্রিমাত্রিক দেখায়। সঠিক অনুপাত বজায় রাখলে বস্তুর বিভিন্ন অংশের মধ্যে সম্পর্ক বাস্তবসম্মত হয়, যা দর্শককে বস্তুর সঠিক আকার ও গঠন সম্পর্কে ধারণা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি বিল্ডিংয়ের ছবি আঁকতে গিয়ে যদি তার উচ্চতা ও প্রস্থের অনুপাত ঠিক না থাকে, তাহলে বিল্ডিংটি অস্বাভাবিক বা বিকৃত দেখাবে এবং এর ত্রিমাত্রিকতা হারিয়ে যাবে। আলোছায়া প্রয়োগের মাধ্যমেও উচ্চতা ও গভীরতা ফুটিয়ে তোলা যায়, কিন্তু তার ভিত্তি হলো সঠিক দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও অনুপাত। এই মাত্রাগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে চিত্রটি কেবল একটি সমতলীয় রেখাচিত্র না হয়ে একটি জীবন্ত, গভীর এবং ত্রিমাত্রিক বস্তুর মতো মনে হবে, যা দর্শককে আকৃষ্ট করবে এবং বাস্তবতার অনুভূতি দেবে।
Class 7 › চারু ও কারুকলা › Chapter 5: ছবি আঁকার নানারকম আনন্দদায়ক অনুশীলন
Aligned to the NCTB national curriculum.