নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছেন, 'আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদেরকে একটি সভ্য, শিক্ষিত জাতি উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিব।'
বাংলাদেশে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় দুটি সুপারিশ বা পদক্ষেপ হলো উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা এবং নারী নির্যাতন ও অ্যাসিড সন্ত্রাস রোধে সরকার কঠোর আইন প্রবর্তন করা।
মিসেস আয়েশার স্বামী লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যমূলক মনোভাব পোষণ করেন। তিনি মনে করেন মেয়েদের উচ্চশিক্ষা লাভ করে লাভ নেই, কারণ শেষ পর্যন্ত তাদের বিয়ে হয়ে স্বামীর বাড়িতেই যেতে হবে। এই মনোভাবের কারণে তিনি ছেলের লেখাপড়ার পেছনে বেশি অর্থ খরচ করেন এবং মেয়ের জন্য কম। এটি বাংলাদেশের সমাজে এখনও প্রচলিত যে, কন্যাসন্তানকে বোঝা মনে করা এবং পুত্রসন্তানের চেয়ে কম গুরুত্ব দেওয়া, যা নারীর শিক্ষা লাভের অধিকারকে খর্ব করে।
মিসেস আয়েশার মতো পরিস্থিতিতে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন সমাজের মানুষ, বিশেষ করে পিতামাতারা, নারী শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হবেন, তখন তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটবে। শিক্ষা নারীর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং তাকে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে। শিক্ষিত নারীরা পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যা নেপোলিয়ন বোনাপার্টের উক্তি দ্বারাও প্রমাণিত। সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এই ভুল ধারণা দূর করা সম্ভব যে, মেয়েদের উচ্চশিক্ষা লাভ করে লাভ নেই। মিডিয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সংগঠন এবং সরকারি সংস্থাগুলো নারী শিক্ষার সুফল এবং নারী-পুরুষের সমানাধিকার সম্পর্কে প্রচার চালাতে পারে, যা মিসেস আয়েশার স্বামীর মতো ব্যক্তিদের মনোভাব পরিবর্তনে সহায়ক হবে এবং মেয়েদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: বাংলাদেশে প্রবীণদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম (বেসরকারি ও সরকারি)
Aligned to the NCTB national curriculum.