জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন।
বাংলাদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামে পরিচিত। সমুদ্রের নিকটবর্তী হওয়ায় ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এখানে শীত বা গ্রীষ্ম কোনোটাই খুব তীব্র নয় এবং গ্রীষ্মকালটা উষ্ণ ও বৃষ্টিবহুল এবং শীতকাল শুষ্ক হয়।
সেলিম সাহেবের উদ্বেগের কারণ হিসেবে শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়ার প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইডসহ অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস থাকে। এই গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত মাত্রায় সঞ্চারিত হয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মূল কারণ। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে জলবায়ু তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারায়, যার দরুন ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না। শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া এই জলবায়ু পরিবর্তনে সরাসরি অবদান রাখে।
বনভূমি ধ্বংসের ফলে বাংলাদেশের জলবায়ুর ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের মোট আয়তনের শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা দরকার। কিন্তু বাংলাদেশে এই বনভূমির পরিমাণ মাত্র ১৭ ভাগ, যা ক্রমাগত কমে আসছে। বনভূমি ধ্বংসের কারণে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়, কারণ গাছপালা কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। বনভূমি কমে গেলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা গ্রিনহাউস প্রভাবকে তীব্রতর করে এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নে অবদান রাখে। এছাড়াও, বনভূমি বৃষ্টিপাতকে প্রভাবিত করে; বনভূমি কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণও কমে গেছে। এর ফলে খরা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিকভাবে জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়, যা কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং জনজীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। বনভূমি ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, ভূমিধস ইত্যাদির প্রকোপও বৃদ্ধি পেতে পারে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 6: বাংলাদেশের জলবায়ু › Topic: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ
Aligned to the NCTB national curriculum.