অধিকারের মূল লক্ষ্য ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন।
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট নারী অধিকারের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, 'আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদেরকে একটি সভ্য, শিক্ষিত জাতি উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিব।'
মিতুর বাবা-মায়ের মনোভাব শিক্ষাক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যকে নির্দেশ করে। তারা মনে করেন মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে কম বুদ্ধিমতী এবং তাদের উচ্চশিক্ষা প্রয়োজন নেই, যা নারীর শিক্ষা লাভের অধিকারের পরিপন্থী। বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশ কিংবা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে সকলের সমান সুযোগ লাভের অধিকার থাকলেও, এই ধরনের মনোভাব নারীদের শিক্ষাজীবনকে বাধাগ্রস্ত করে।
মিতুর মতো মেয়েদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য। পরিবারকে প্রথমেই ছেলে-মেয়ের মধ্যে শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য না করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। সমাজকে নারীর শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং বাল্যবিবাহের মতো প্রথা বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে এবং নারী শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন প্রণোদনামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারীরা তাদের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশের সুযোগ পাবে এবং পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: বাংলাদেশে প্রবীণদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম (বেসরকারি ও সরকারি)
Aligned to the NCTB national curriculum.