অধিকারের মূল লক্ষ্য ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন।
নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে সরকার কয়েকটি বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে, যেমন: উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা, সন্তানের পরিচয় নির্ধারণে মায়ের নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা, নারী নির্যাতন ও অ্যাসিড সন্ত্রাস রোধে কঠোর আইন প্রবর্তন এবং কর্মস্থলে নারীর মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় ৬ মাস করা।
নাসিমা বেগমের ছোট বোন শিক্ষা লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশ কিংবা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে সকলের সমান সুযোগ লাভের অধিকার রয়েছে। ভালো ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও বাবা-মায়ের লিঙ্গ-ভিত্তিক বৈষম্যমূলক মনোভাবের কারণে তাকে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ না দেওয়া তার এই মৌলিক অধিকারকে খর্ব করছে।
নাসিমা বেগম তার ছোট বোনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারেন: প্রথমত, তিনি তার বাবা-মাকে নারী শিক্ষার গুরুত্ব এবং নারী-পুরুষের সমানাধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, তিনি ছোট বোনের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন, কারণ সরকারি বিধিবিধানে নাগরিক হিসেবে নারীকে পুরুষের পাশাপাশি সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, তিনি ছোট বোনকে বুঝিয়ে বলতে পারেন যে, নারীরাও ছেলেদের মতো সমানভাবে বাবা-মা, পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব নিতে পারে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এভাবে তিনি পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং বোনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করতে পারেন।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.