বাংলাদেশে নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার হলো নারীর নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের অধিকার।
নারী নির্যাতন ও অ্যাসিড সন্ত্রাস রোধে সরকার কঠোর আইন প্রবর্তন করেছে। এই আইন নারীর প্রতি বৈষম্য দূর ও তার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ ব্যবস্থা।
মিসেস ফাতেমা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন হতে মুক্ত থেকে সুন্দর পরিবেশে বসবাসের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রবীণদের উন্নয়ন ও মর্যাদা সংশ্লিষ্ট অধিকারের মধ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এছাড়াও, আইনের চোখে নারী-পুরুষ সমান এবং সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী হলেও তিনি তার আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে সাহায্য পাচ্ছেন না, যা তার এই অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে। তার উপর এই নির্যাতন নারী অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
মিসেস ফাতেমার মতো নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, সমাজের উচিত নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পারিবারিক নির্যাতনকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে না দেখে সামাজিক সমস্যা হিসেবে গণ্য করতে হবে এবং নির্যাতিত নারীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিদ্যমান কঠোর আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সমাজকে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। তৃতীয়ত, নির্যাতিত নারীদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র, আইনি সহায়তা এবং মানসিক কাউন্সেলিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। চতুর্থত, সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে এবং নারী-পুরুষের সমান মর্যাদার বিষয়টি ছোটবেলা থেকেই শেখানো উচিত। সমাজের প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব হলো নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.