বাংলাদেশের সংবিধানে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার কথা বলা হয়েছে।
নারী-পুরুষের সমান অধিকার বলতে বোঝায় যে, পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে অর্থাৎ জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমান অধিকার থাকবে। শুধু ভোট প্রদান বা নির্বাচনে দাঁড়াবার সুযোগের বেলায়ই পুরুষ ও নারী যে সমান তা নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা, চাকরি বা কর্মসংস্থান, বেতন বা মজুরি সব ব্যাপারেই নারী ও পুরুষ সমান সুযোগ লাভের অধিকারী।
মিতা শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তার বাবা-মা ভালো ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও তাকে মাধ্যমিকের পর আর পড়াশোনা করাতে রাজি নন। তারা মনে করেন, মেয়ের পড়াশোনার পেছনে বেশি খরচ করা অপচয়। এটি সমাজে প্রচলিত সেই মানসিকতার প্রতিফলন যেখানে ছেলে-সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে পরিবার যতটা আগ্রহ দেখায়, মেয়েদের বেলায় তা দেখায় না, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়।
মিতা ও তার মতো মেয়েদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য। সরকার উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে পারে। নারী নির্যাতন ও অ্যাসিড সন্ত্রাস রোধে কঠোর আইন প্রবর্তন এবং কর্মস্থলে নারীর মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় বাড়িয়ে ৬ মাস করার মতো পদক্ষেপগুলো নারীর ক্ষমতায়নে সহায়ক। সমাজের ক্ষেত্রে, শিক্ষার বিস্তার ও সচেতনতা সৃষ্টি ছাড়া অবস্থার পুরোপুরি পরিবর্তন সম্ভব নয়। কন্যাশিশুকে বোঝা মনে করার মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে এবং মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে পরিবারগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। বিভিন্ন সভা-সমিতি-সংগঠন ও আন্দোলনের মাধ্যমে নারীর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.