Creative Questionmediumজলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ (ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, শৈত্যপ্রবাহ, টর্নেডো, কালবৈশাখী)

রহিমা বেগম তার পরিবার নিয়ে গ্রামে বসবাস করেন তাদের গ্রামটি একটি বড়ো নদীর পাশে অবস্থিত তিনি দেখেছেন, প্রতি বছর বর্ষাকালে নদীর পাড় ভাঙতে থাকে এবং তাদের আবাদি জমি বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যায় এর ফলে তার পরিবারের মতো হাজার হাজার মানুষ ভিটেমাটি কাজের সংস্থান হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে

· জ্ঞানবাংলাদেশের জলবায়ুর একটি বৈশিষ্ট্য লেখো1

বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামে পরিচিত

· অনুধাবনগ্রিনহাউস গ্যাস কীভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে?2

কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন প্রভৃতি গ্রিনহাউস গ্যাস বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত মাত্রায় সঞ্চারিত হয়ে পৃথিবীর তাপ ধরে রাখে, যার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়

· প্রয়োগরহিমা বেগমের গ্রামে সৃষ্ট দুর্যোগটির কারণ ব্যাখ্যা করো3

রহিমা বেগমের গ্রামে সৃষ্ট দুর্যোগটি হলো 'নদীভাঙন'। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতি বছর বর্ষাকালে নদীর পাড় ভাঙতে থাকে এবং তাদের আবাদি জমি বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যায় নদীভাঙনের একটি কারণ হলো বাংলাদেশের নদীগুলোর গতিপথের ধরন আঁকাবাঁকা হওয়া নদীর বাঁকগুলো ঘনঘন হওয়ায় পানির প্রবল স্রোত সোজাপথে প্রবাহিত হতে না পেরে নদীর পাড়ে এসে আঘাত করে, এজন্য নদীর পাড় ভাঙতে থাকে এছাড়াও নদীর গতিপথ পরিবর্তন, নদীপাড়ের মাটির দুর্বল গঠন, নদীভরাট যেখানে-সেখানে বাঁধ দিয়ে নদী শাসনের চেষ্টা, নতুন নতুন সেতু নির্মাণ, নদীর পাড়ে যথেষ্ট গাছপালা না থাকা ইত্যাদি কারণেও নদীভাঙন ঘটে

· উচ্চতর দক্ষতানদীভাঙন মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে? বিশ্লেষণ করো4

নদীভাঙন মোকাবিলায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে: ১. নদীর পাড়ে গাছ লাগানো: নদীর পাড়ে প্রচুর গাছপালা লাগানো উচিত, যা মাটিকে ধরে রাখতে এবং ভাঙন রোধে সাহায্য করে ২. নদীর পাড় সংরক্ষণ: নদীর পাড় সংরক্ষণের জন্য বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ব্লক, জিও-ব্যাগ বা অন্যান্য কৌশল ব্যবহার করা যেতে পারে ৩. নিয়মিত নদী খনন: নিয়মিত নদী খননের ব্যবস্থা করা উচিত, যাতে নদীর তলদেশে পলি জমে জলধারণ ক্ষমতা কমে না যায় এবং নদীর গতিপথ স্বাভাবিক থাকে ৪. নদী শাসনের সঠিক পরিকল্পনা: যেখানে-সেখানে বাঁধ দিয়ে নদী শাসনের চেষ্টা না করে, নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ বাস্তুতন্ত্র বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা ৫. সচেতনতা বৃদ্ধি: নদীভাঙনের কারণ এর ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা এবং তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ৬. আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: নদীভাঙন প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করতে এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে আধুনিক প্রযুক্তি গবেষণা ব্যবহার করা এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করে নদীভাঙন তার ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব এবং হাজার হাজার মানুষের ভিটেমাটি হারানোর দুর্ভোগ হ্রাস করা যায়

Source

Class 7বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় Chapter 6: বাংলাদেশের জলবায়ু Topic: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ (ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, শৈত্যপ্রবাহ, টর্নেডো, কালবৈশাখী)

Aligned to the NCTB national curriculum.