বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামে পরিচিত।
কালবৈশাখী ঝড় হলো এক ধরনের ক্ষণস্থায়ী ও স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট প্রচণ্ড ঝড়। এটি সাধারণত বৈশাখ মাসেই বেশি হয় এবং প্রায় সময় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসে। টর্নেডোর মতো অত বিধ্বংসী না হলেও এ ঝড়ে জানমালের প্রচুর ক্ষতি হয়, ঘরবাড়ি উড়িয়ে নেয়, গাছপালা উপড়ে ফেলে এবং নৌ-চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়।
করিম সাহেবের এলাকায় ফসলের ক্ষতির কারণ হলো বন্যা। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার এলাকার নদীগুলো প্রতি বছর বর্ষাকালে ভরাট হয়ে যায় এবং এর জলধারণ ক্ষমতা কমে আসে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই তার এলাকা প্লাবিত হয় এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীগুলো লক্ষ লক্ষ টন পলি বয়ে আনে, যার কিছু অংশ নদীর তলদেশে জমা হয়ে তাকে ভরাট করে ফেলে। এতে নদীর জলধারণ ক্ষমতা কমে যায় এবং পানি উপচে আশেপাশের এলাকা প্লাবিত করে, যার ফলে ব্যাপক ফসলহানি ঘটে।
করিম সাহেবের মতো উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের দুর্যোগ মোকাবিলায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা উচিত: ১. আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা মেনে চলা এবং সময়মতো আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া। ২. বাড়ির আশেপাশে প্রচুর গাছ লাগানো, যা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে। ৩. ঘরবাড়ির ভিটা উঁচু করা এবং প্রয়োজনে মজবুত নির্মাণশৈলী অনুসরণ করা। ৪. নিয়মিত নদী খননের ব্যবস্থা করা যাতে নদীর জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং বন্যার প্রকোপ কমে। ৫. সুপেয় পানির উৎস সংরক্ষণ করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃপ্রণালি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, কারণ দুর্যোগের পর ছোঁয়াচে রোগের বিস্তার বৃদ্ধি পায়। ৬. দুর্যোগকালীন সময়ে শুকনো খাবার, ঔষধপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখা। ৭. সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 6: বাংলাদেশের জলবায়ু › Topic: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ (ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, শৈত্যপ্রবাহ, টর্নেডো, কালবৈশাখী)
Aligned to the NCTB national curriculum.