Creative Questionmediumজলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ (ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, শৈত্যপ্রবাহ, টর্নেডো, কালবৈশাখী)

মিজান সাহেব একজন পরিবেশবিদ তিনি একটি সেমিনারে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান তিনটি নদী পদ্মা, যমুনা মেঘনাসহ প্রায় সবগুলো নদীরই উৎস ভারতে এসব নদনদী হিমালয়ের বরফগলা উজানে বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বিপুল পানিপ্রবাহ বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বয়ে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ফেলে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উজানের দেশগুলোতে অপরিকল্পিত বাঁধ নদীসংযোগ প্রকল্পের কারণেও বাংলাদেশে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হচ্ছে

· জ্ঞানবাংলাদেশের গ্রীষ্মকাল কখন শুরু হয়?1

বৈশাখ মাস থেকে বাংলাদেশে গ্রীষ্ম ঋতু আরম্ভ হয়, যা ইংরেজি ক্যালেন্ডারের হিসেবে এপ্রিলের মাঝামাঝি

· অনুধাবনঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো2

ঘূর্ণিঝড় হলো নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ুর প্রবল গতি সমুদ্রে সৃষ্ট নিম্নচাপ ঝড়ের ফলে সমুদ্রের লোনা জল বিশাল উচ্চতা নিয়ে তীব্রবেগে উপকূলে আছড়ে পড়ে এবং স্থলভাগকে প্লাবিত করে, একেই বলে জলোচ্ছ্বাস অর্থাৎ, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়, যা উপকূলে আঘাত হানে

· প্রয়োগমিজান সাহেবের বক্তব্যে উল্লেখিত প্রাকৃতিক দুর্যোগটি ব্যাখ্যা করো3

মিজান সাহেবের বক্তব্যে উল্লেখিত প্রাকৃতিক দুর্যোগটি হলো 'বন্যা'। উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের প্রধান তিনটি নদী পদ্মা, যমুনা মেঘনাসহ প্রায় সবগুলো নদীরই উৎস ভারতে এসব নদনদী হিমালয়ের বরফগলা উজানে বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বিপুল পানিপ্রবাহ বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বয়ে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ফেলে বৃষ্টির পানি পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি একসঙ্গে মিলে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি করে পাড়ে উপচে দু-কূলের জনপদকে প্লাবিত করে জানমালের ক্ষতি করে এছাড়া উজানের দেশগুলোতে অপরিকল্পিত বাঁধ নদীসংযোগ প্রকল্পের কারণেও বন্যার সৃষ্টি হয়

· উচ্চতর দক্ষতাবন্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে? বিশ্লেষণ করো4

বন্যা একেবারে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে: ১. বাঁধ নির্মাণ সংস্কার: নদীর পাড়ে মজবুত উঁচু বাঁধ নির্মাণ এবং নিয়মিত সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করা ২. ঘরবাড়ির ভিটা উঁচু করা: বন্যাপ্রবণ এলাকার ঘরবাড়ির ভিটা উঁচু করে নির্মাণ করা যাতে পানি সহজে প্রবেশ করতে না পারে ৩. নদী খনন: নিয়মিত নদী খননের ব্যবস্থা করা যাতে নদীর তলদেশে পলি জমে জলধারণ ক্ষমতা কমে না যায় ৪. আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা: বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং দ্রুততার সাথে জনগণকে তথ্য জানানো ৫. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ: পর্যাপ্ত বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা এবং দুর্যোগের সময় মানুষকে সেখানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা ৬. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: ভারতের সাথে অভিন্ন নদীগুলোর পানির হিস্যা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়া এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা ৭. সচেতনতা বৃদ্ধি: বন্যার সময় করণীয় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণে উৎসাহিত করা এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব এবং জনজীবন সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়

Source

Class 7বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় Chapter 6: বাংলাদেশের জলবায়ু Topic: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ (ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, শৈত্যপ্রবাহ, টর্নেডো, কালবৈশাখী)

Aligned to the NCTB national curriculum.