শীতকালে বাংলাদেশের তাপমাত্রা ৯.৯°-৩০.৭° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অধিক তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের অস্বাভাবিকতার জন্য দেশে আশানুরূপ ফসল ফলানো সম্ভব হয় না। কিছু এলাকায় বর্ষা মৌসুমে আগাম বন্যার কারণে এমনকি গভীর পানিতে উৎপাদনশীল ধানের আবাদও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে আউশ ধান ও পাট চাষের উপযোগী জমির পরিমাণ হ্রাস পায়, যা ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কারণ।
মিনা ও রিনার দেখা প্রামাণ্যচিত্রে মৎস্যসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ হলো লবণাক্ততা, বন্যা ও উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাস। লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে স্বাদু পানির মৎস্যসম্পদ কমে যায়। বন্যার কারণে নদী-পুকুরের পাড় উপচে পানি জনবসতিতে প্রবেশ করলে মাছের বসবাসের স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাসে দেশের অভ্যন্তরে নদীসমূহে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়, যা মৎস্যসম্পদের জন্য ক্ষতিকর।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের সামগ্রিক প্রভাব অত্যন্ত নেতিবাচক এবং সুদূরপ্রসারী। ১. কৃষি: অধিক তাপমাত্রা, পরিবর্তিত বৃষ্টিপাত এবং আগাম বন্যার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়, যা খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে। ২. মৎস্যসম্পদ: লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে স্বাদু পানির মাছের উৎপাদন কমে যায়, যা মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে। ৩. স্বাস্থ্য: উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান বন্যার কারণে স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃপ্রণালি ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে, যা ছোঁয়াচে রোগের বিস্তার ঘটায়। ৪. শিল্প: কৃষিজ পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিল্পের কাঁচামালের অভাব দেখা দেয়, যার ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। ৫. সামাজিক: স্বল্প সময়ে অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা ও নদীভাঙনের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়, ফলে নগর ও গ্রামে উদ্বাস্তুর সংখ্যা বাড়ে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। সামগ্রিকভাবে, জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের দারিদ্র্য বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান হ্রাস এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে, যা দেশকে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিণত করেছে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 6: বাংলাদেশের জলবায়ু › Topic: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ (ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, শৈত্যপ্রবাহ, টর্নেডো, কালবৈশাখী)
Aligned to the NCTB national curriculum.