কালবৈশাখী ঝড় প্রায় সময় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসে।
গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার গড় ২১° সেলসিয়াস থাকে। তবে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কখনো কখনো তাপমাত্রা ৪০°-৪৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে।
কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির কারণ হলো কোনো স্থানের তাপমাত্রা প্রচুর বেড়ে গেলে সেখানকার বাতাস হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। তখন পাশের অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত শীতল বাতাস প্রবল বেগে এই শূন্যস্থানে ধেয়ে আসে ও ঝড়ের সৃষ্টি করে। সাধারণত বৈশাখ মাসেই এ ঝড় বেশি হয় বলে একে কালবৈশাখী বলা হয়।
ঘূর্ণিঝড় ও কালবৈশাখী ঝড়ের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো ঘূর্ণিঝড় সাধারণত বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে হয় এবং এর স্থায়িত্বকাল বেশি হয়, যা ব্যাপক এলাকা জুড়ে প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, কালবৈশাখী স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট ক্ষণস্থায়ী ঝড়, যা স্থলভাগে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হয় এবং এর প্রভাব তুলনামূলক কম এলাকা জুড়ে থাকে। এই দুর্যোগগুলো মোকাবিলায় আবহাওয়া বিভাগ থেকে প্রচারিত পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা মেনে চলা অত্যাবশ্যক। এছাড়াও, বাড়ির আশেপাশে গাছ লাগানো, গ্রিনহাউস গ্যাস উদগীরণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং কালবৈশাখীর মৌসুমে নদীপথে নৌকা ও লঞ্চ চলাচলে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 6: বাংলাদেশের জলবায়ু › Topic: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ (ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, শৈত্যপ্রবাহ, টর্নেডো, কালবৈশাখী)
Aligned to the NCTB national curriculum.