অধিকারের মূল লক্ষ্য ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন।
বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী, তাই তাদের অধিকার বঞ্চিত করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী শুধু গৃহস্থালি কর্মসম্পাদনে সনাতনী ভূমিকাই পালন করছেন না বরং উপার্জনক্ষম কাজও করছেন, যা পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অপরিহার্য।
রিনা বেগম পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তার স্বামী তাকে ঘরের কাজের জন্য গালমন্দ করেন, যা নারীর প্রতি এক ধরনের মানসিক নির্যাতনের সামিল। যদিও পাঠ্যপুস্তকে সরাসরি 'মানসিক নির্যাতন' উল্লেখ নেই, তবে 'শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন হতে মুক্ত থেকে সুন্দর পরিবেশে বসবাসের অধিকার' প্রবীণদের জন্য বলা হয়েছে, যা নারীর জন্যও প্রযোজ্য। এটি তার ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারেরও লঙ্ঘন।
রিনা বেগমের মতো নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো যেমন: উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ, উপবৃত্তির ব্যবস্থা, সন্তানের পরিচয় নির্ধারণে মায়ের নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা, নারী নির্যাতন ও অ্যাসিড সন্ত্রাস রোধে কঠোর আইন প্রবর্তন এবং কর্মস্থলে নারীর মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করা—এগুলো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ও কার্যকর। তবে, সমাজে শিক্ষার বিস্তার ও সচেতনতা সৃষ্টি ছাড়া অবস্থার পুরোপুরি পরিবর্তন সম্ভব নয়। আইন ও সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও পারিবারিক পর্যায়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হলে রিনা বেগমের মতো নারীরা এখনও বৈষম্যের শিকার হতে পারেন।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.