অধিকারের মূল লক্ষ্য ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন।
বাংলাদেশের সংবিধানে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার কথা বলা হয়েছে কারণ নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা আধুনিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নারী অধিকার মানবাধিকারের অংশ এবং জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বয়স, লিঙ্গ, আর্থিক অবস্থাভেদে বিশ্বের সব দেশের সব মানুষের এসব অধিকার পাওয়ার অধিকার আছে। সমাজের বৃহৎ অংশ নারীকে পিছিয়ে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়, তাই তাদের সমানাধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
মিসেস রোকসানা কর্মস্থলে অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সরকারি চাকরি লাভে নারী-পুরুষের অধিকার সমান এবং এক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা যাবে না, কিন্তু তিনি পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীর তুলনায় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। পরিবারে, তার স্বামী তাকে চাকরি ছেড়ে গৃহিণী হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন, যা তার ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার এবং কর্মসংস্থানের অধিকারের পরিপন্থী। এই চাপ নারীর জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে অংশগ্রহণের অধিকারকে ব্যাহত করে এবং তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।
মিসেস রোকসানার মতো কর্মজীবী নারীদের অধিকার রক্ষায় বহুবিধ পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, কর্মস্থলে নারী-পুরুষের সমান মজুরি, পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কর্মজীবী নারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি, ডে-কেয়ার সেন্টার এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, পরিবারে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতাকে সম্মান জানাতে হবে এবং তাদের কর্মজীবনে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে হবে। স্বামী বা পরিবারের সদস্যদের নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। চতুর্থত, কর্মজীবী নারীদের জন্য আইনি সহায়তা এবং পরামর্শ কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যাতে তারা কোনো বৈষম্যের শিকার হলে দ্রুত প্রতিকার পেতে পারে। এছাড়াও, নারী অধিকার সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে, যাতে নারীরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং তা আদায়ে সক্ষম হয়।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.