জাতিসংঘের মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বয়স, লিঙ্গ আর্থিক অবস্থাভেদে বিশ্বের সব দেশের সব মানুষ এসব অধিকার পাওয়ার অধিকারী।
বাংলাদেশে নারী-পুরুষের সমান অধিকার বলতে পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে অর্থাৎ জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমান অধিকারের কথা বোঝানো হচ্ছে। এটি শুধু ভোট প্রদান বা নির্বাচনে দাঁড়াবার সুযোগের বেলায়ই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা, চাকরি বা কর্মসংস্থান, বেতন বা মজুরি সব ব্যাপারেই নারী ও পুরুষ সমান সুযোগ লাভের অধিকারী।
মিসেস সালমা পারিবারিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তার স্বামী মনে করেন বাড়ির কাজ নারীদেরই দায়িত্ব এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দেন না, যা পরিবারে নারীর প্রতি প্রচলিত বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির ফল। এছাড়াও, সালমা অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তার স্বামী চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করতে রাজি নন, যা তার স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার এবং অর্থনৈতিক অধিকারকে খর্ব করছে। এটি বাংলাদেশের সমাজে নারীর পিছিয়ে থাকা অবস্থানের একটি উদাহরণ।
মিসেস সালমার অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনের চোখে নারী-পুরুষের সমান আশ্রয় লাভের অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সংবিধানে আইনের চোখে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যদি মিসেস সালমা তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে তিনি আইনি আশ্রয় নিতে পারেন। তার স্বামী যদি তার মতামতকে গুরুত্ব না দেন বা চিকিৎসার জন্য অর্থ ব্যয় না করেন, তবে এটি পারিবারিক সহিংসতা বা অবহেলার আওতায় আসতে পারে। আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকার তাকে তার প্রাপ্য অধিকার আদায় করতে এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। এই অধিকার তাকে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার সুযোগ দেবে এবং পরিবারে তার অবস্থানকে শক্তিশালী করবে, যা সামগ্রিকভাবে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: বাংলাদেশে নারী অধিকারসমূহ ও নারী অধিকারের গুরুত্ব
Aligned to the NCTB national curriculum.