বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · Class 7 · Chapter 9
সালমা বেগম (৩০) একজন কর্মজীবী নারী। তার একটি শিশু সন্তান আছে। তার কর্মস্থলে একটি ডে-কেয়ার সেন্টার নেই, ফলে তাকে সন্তানকে বাড়িতে রেখে কাজ করতে হয়, যা তার জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
রেবেকা তার স্বামীর সাথে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করে। একই পদে কাজ করা সত্ত্বেও রেবেকা তার পুরুষ সহকর্মীর চেয়ে কম মজুরি পায়। একবার সে এই বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে বলা হয়, 'নারী হিসেবে তোমার এই পরিমাণ মজুরিই যথেষ্ট।'
সালমা বেগম (৭২) একজন অসুস্থ প্রবীণ নারী। তার পরিবারের সদস্যরা তার শারীরিক অসুস্থতাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না। তিনি প্রায়ই অনুভব করেন যে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে বোঝা মনে করে। ফলে সালমা বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং তার স্মৃতি বিভ্রম দেখা দিচ্ছে।
মিতা (২৫) একজন গ্রামীণ নারী। সে ভালো ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তার পরিবার তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। মিতার ইচ্ছা ছিল উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন শিক্ষিকা হওয়ার। এখন সে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারছে না।
হাফিজা বেগম (৭০) তার নাতনীর বিয়েতে মতামত দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা তার মতামতকে গুরুত্ব দেয়নি। এতে হাফিজা বেগম খুবই মনঃক্ষুণ্ণ হন। অপরদিকে, তার শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা ও ঔষধপথ্য কেনার সামর্থ্য তার নেই।
সামিনা (২৫) একজন নারী উদ্যোক্তা। তিনি তার নিজের ব্যবসা শুরু করেছেন এবং সফল হয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, নারীদের যদি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, চলাফেরা ও মতপ্রকাশের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় তবে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
জনাব রহিম সরকারি চাকরি থেকে ৫৯ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পর তার ছেলেমেয়েরা তাকে আগের মতো সময় দেয় না। তার মতামতকেও তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ফলে তিনি নিজেকে অবহেলিত ও অসহায় ভাবতে শুরু করেন।
মিসেস সালমা তার স্বামী ও দুই ছেলে নিয়ে একটি ছোট পরিবারে বাস করেন। তিনি গৃহিণী এবং বাড়ির সব কাজ একাই সামলান। তার স্বামী মনে করেন, বাড়ির কাজ নারীদেরই দায়িত্ব এবং সালমার কোনো মতামতকে গুরুত্ব দেন না। সালমা প্রায়ই অসুস্থ থাকেন কিন্তু তার চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করতে তার স্বামী রাজি নন।
গ্রামের একটি পরিবারে কন্যাশিশুকে বোঝা হিসেবে গণ্য করা হয়। তারা মনে করে পুত্র বড় হয়ে বাবা-মাকে উপার্জন করে খাওয়াবে, সংসারের হাল ধরবে। অন্যদিকে কন্যা বিয়ের পর স্বামী বা শ্বশুরবাড়ি চলে যাবে, উপরন্তু তাকে বিয়ে দিতে গিয়ে পিতামাতাকে অনেক টাকা খরচ করতে হবে। এই মনোভাব থেকেই তারা পুত্রসন্তানকে কন্যাসন্তানের চেয়ে অধিক গুরুত্ব দেয়।
রেবেকা একজন কর্মজীবী নারী। তার স্বামী তাকে কর্মস্থলে যেতে বাধা দেন না, তবে তার উপার্জিত অর্থের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন। রেবেকা মনে করেন তার আর্থিক স্বাধীনতা নেই। তিনি তার নিজের পছন্দমতো কিছু কেনাকাটা করতে পারেন না।
মিসেস সালমা (৩৫) একজন সরকারি কর্মকর্তা। কর্মস্থলে তিনি তার পুরুষ সহকর্মীদের সমান কাজ করা সত্ত্বেও বেতন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন। তিনি মনে করেন, সংবিধানে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না।
লামিয়া বেগম একজন কর্মজীবী নারী। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সম্প্রতি তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যেতে চাইলে তার প্রতিষ্ঠান তাকে ৬ মাসের পরিবর্তে ৩ মাসের ছুটি দিতে চায়। লামিয়া এর প্রতিবাদ করলে তাকে বলা হয়, 'নারীদের জন্য এত সুবিধা দিলে অফিসের কাজ কিভাবে চলবে?'
মিসেস শাহানা একজন উচ্চশিক্ষিত নারী। তিনি একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে উচ্চ পদে চাকরি করেন। তার স্বামীও একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাদের একটি ছোট ছেলে আছে। শাহানা তার ছেলেকে লালন-পালন করার পাশাপাশি অফিসের কাজও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামলাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, একজন নারী শুধু গৃহস্থালি কর্মসম্পাদনই নয়, বরং দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মিতা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার বাবা-মা মনে করেন, মেয়েরা বেশি লেখাপড়া করে কী করবে, তাদের তো শেষ পর্যন্ত বিয়ে হয়ে শ্বশুরবাড়ি যেতে হবে। তাই তারা মিতার পড়ালেখার ব্যাপারে তেমন গুরুত্ব দেন না।
রাশেদা বেগম একজন গৃহবধূ। তিনি মনে করেন, তার স্বামী ও পুত্রসন্তানকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাকে ও তার কন্যাসন্তানকে ততটা দেওয়া হয় না। পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তার মতামত নেওয়া হয় না। এমনকি তার মেয়েকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ না দিয়ে অল্প বয়সেই বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
শহরের একটি বস্তিতে বসবাসকারী রহিমা (২২) একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। তার স্বামী রিকশা চালায়। তাদের একটি ছোট ছেলে আছে। রহিমার স্বামী চায় না সে কাজ করুক, কারণ সে মনে করে নারীদের কাজ করা উচিত নয়। কিন্তু রহিমার আয় ছাড়া তাদের সংসার চালানো কঠিন।