অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
নারীর প্রতি বৈষম্য দূর ও তার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা; সন্তানের পরিচয় নির্ধারণে পূর্বে যেখানে শুধু বাবার নাম লেখার নিয়ম ছিল, বর্তমানে সেখানে মায়ের নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা; নারী নির্যাতন ও অ্যাসিড সন্ত্রাস রোধে সরকার কঠোর আইন প্রবর্তন; এবং কর্মস্থলে নারীর মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় বাড়িয়ে ৬ মাস করার মতো বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।
ফাতেমা বেগম বাংলাদেশে নারীর সমানাধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার এবং মর্যাদা লাভের অধিকার ভোগ করছেন। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তিনি সরকারি চাকরি লাভে নারীর সমান অধিকার ভোগ করছেন। তার স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে সম্মান করে এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দেয়, যা নারীর মর্যাদা সংশ্লিষ্ট অধিকারের প্রকাশ। তিনি মনে করেন তিনি সমাজের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অধিকার রাখেন, যা নারী-পুরুষের সমান অধিকারের ধারণাকে প্রতিফলিত করে।
ফাতেমা বেগমের মতো শিক্ষিত, স্বাবলম্বী ও সচেতন নারীরা রাষ্ট্র গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রথমত, তারা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দক্ষতার সাথে কাজ করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। দ্বিতীয়ত, তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রকৌশল, চিকিৎসা, প্রতিরক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়ে সমাজের অগ্রগতিতে সাহায্য করতে পারে। তৃতীয়ত, তারা পরিবার ও সমাজের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। চতুর্থত, তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থেকে অন্যদেরও সচেতন করে তুলতে পারে, যা নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করে একটি সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠনে সহায়ক হবে। পরিশেষে, তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে তারা জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে অবদান রাখতে পারবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.