পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ সালে প্রণীত হয়।
পরিবারে ও সমাজে প্রবীণদের কোণঠাসা অবস্থা তাঁদের মধ্যে এক ধরনের হীনম্মন্যতার জন্ম দেয়। তাঁরা নিজেদেরকে খুব অবহেলিত ও অসহায় ভাবতে শুরু করেন, যা মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা হিসেবে পরিচিত। সামর্থ্যের অভাব, শারীরিক অসুস্থতা ও নিঃসঙ্গতা এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে।
রফিক সাহেব মূলত অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। নিজস্ব আয়-রোজগারের সুযোগ না থাকায় এবং সঞ্চিত অর্থ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়ায় তিনি অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন। সন্তানদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার কারণে তিনি অর্থকষ্টে ভুগছেন, যা প্রবীণদের অর্থনৈতিক সমস্যার একটি প্রধান দিক।
রফিক সাহেবের সমস্যার সমাধানে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এই আইনে প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে ভরণ-পোষণের বাধ্যবাধকতার কথাও আইনে উল্লেখ আছে। এই আইনের মাধ্যমে রফিক সাহেব তাঁর সন্তানদের কাছ থেকে আইনগতভাবে ভরণ-পোষণ দাবি করতে পারেন, যা তাঁকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রদান করবে এবং তাঁর অসহায়ত্ব দূর করতে সাহায্য করবে। আইনটি প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.