প্রবীণ বয়সে মানুষের শারীরিক শক্তি কমে আসে এবং নানা রোগব্যাধি শরীরে বাসা বাঁধে।
একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে ছোট ছোট পরিবারে পরিণত হওয়ায় বৃদ্ধ বাবা-মা বা শ্বশুর-শাশুড়ির স্থান থাকছে না। তাঁদের দেখাশোনা বা অসুখ-বিসুখে সেবাযত্নের লোকের অভাব ঘটছে। তাঁদেরকে সঙ্গ দেওয়ার বা তাঁদের সঙ্গে গল্পগুজব করার লোক থাকছে না, ফলে তাঁরা নিঃসঙ্গ ও বিমর্ষ বোধ করছেন।
মফিজ সাহেব মূলত শারীরিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়া এবং নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া তার শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা না পাওয়া এবং ঔষধ কেনার সামর্থ্য না থাকা তার অর্থনৈতিক অসহায়ত্বের প্রকাশ। তার দেখাশোনা করার কেউ না থাকায় তিনি পরিচর্যা সংশ্লিষ্ট অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
মফিজ সাহেবের মতো অসহায় প্রবীণদের কল্যাণে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারিভাবে বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমের মাধ্যমে তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি, প্রবীণদের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধপত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করা উচিত। বেসরকারি সংস্থা যেমন 'প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান' বা 'বৃদ্ধ নিবাস' তাকে আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যার সুবিধা দিতে পারে। রোটারি ক্লাব বা বাংলাদেশ মহিলা স্বাস্থ্য সংঘের মতো সংস্থাগুলো তার জন্য আর্থিক অনুদান বা ঔষধের ব্যবস্থা করতে পারে। এই দুই খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা মফিজ সাহেবের মতো প্রবীণদের মৌলিক চাহিদা পূরণ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, কারণ এককভাবে কোনো এক খাতের পক্ষে এত বড়ো সমস্যার সমাধান করা কঠিন।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.