বাংলাদেশে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের বয়স ৫৯ বছর।
বিচারপতিদের জন্য অবসরের বয়স ৬৭ বছর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কোনো কোনো পেশাজীবীদের জন্য এই সীমা সম্প্রতি ৬৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর কারণ হলো, এসব পেশায় অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এই বয়সেও তারা সমাজের জন্য মূল্যবান অবদান রাখতে পারেন। তাদের পেশার প্রকৃতি এমন যে, শারীরিক পরিশ্রমের চেয়ে মানসিক দক্ষতা ও প্রজ্ঞা বেশি প্রয়োজন।
শফিক সাহেব অবসর গ্রহণের পর যে ভাতা পাচ্ছেন, তা প্রবীণদের জন্য সরকারি কল্যাণমূলক কার্যক্রমের 'অবসর ভাতা'র অংশ। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা অবসর গ্রহণ বা মৃত্যুবরণ করলে পেনশন পেয়ে থাকেন। শফিক সাহেব সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় তিনি বিধি মোতাবেক এই ভাতা পাচ্ছেন, যা তার অবসরকালীন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
শফিক সাহেবের মতো প্রবীণদের জন্য সরকারি চাকরি থেকে অবসরের বয়স বাড়ানো উচিত বলে আমি মনে করি। কারণ, অনেক প্রবীণ ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিকভাবে কর্মঠ থাকেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান সমাজের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। অবসরের বয়স বাড়ালে তারা আরও দীর্ঘ সময় দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন তাদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বজায় থাকবে, তেমনি তারা নিজেদেরকে সমাজের বোঝা মনে করবেন না। এটি তাদের মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতার জন্যও সহায়ক হবে। বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কিছু পেশাজীবীদের জন্য অবসরের বয়স বাড়ানোর উদাহরণ থেকে বোঝা যায় যে, অভিজ্ঞতার মূল্য অনস্বীকার্য। তবে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং কাজের প্রকৃতির বিষয়গুলোও বিবেচনা করা উচিত।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.