বাংলাদেশের সংবিধানে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার কথা বলা হয়েছে কারণ নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
নারী শুধু মা, বোন, কন্যা, ভাবি, চাচি, ফুফু, খালা, নানি, দাদিরই ভূমিকা পালন করেন না বরং পুরুষের পাশাপাশি সংসার পরিচালনার গুরুদায়িত্বও পালন করেন। এ ছাড়াও সন্তান লালন-পালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটিও নারীকেই করতে হয়। তারা গৃহস্থালি কর্মসম্পাদনে সনাতনী ভূমিকাই পালন করছেন না বরং উপার্জনক্ষম কাজও করছেন।
সাবিহার গ্রামের মেয়েদের পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হওয়া বাংলাদেশের নারী অধিকারের 'বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশ কিংবা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে সকলের সমান সুযোগ লাভের অধিকার' এবং 'নিজের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশের সুযোগ সৃষ্টির অধিকার' এর লঙ্ঘন। বাল্যবিবাহের কারণে তারা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা তাদের মেধা বিকাশের পথ রুদ্ধ করছে।
সাবিহার গ্রামের মতো এলাকায় নারী শিক্ষার প্রসারে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রথমত, উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে এবং এর প্রচার বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেয়েদের জন্য স্কুল ও কলেজ স্থাপন করতে হবে এবং সেখানে পর্যাপ্ত নারী শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। চতুর্থত, মেয়েদের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পঞ্চমত, নারী শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে পরিবার ও সমাজে ব্যাপক প্রচার চালানো উচিত, যাতে অভিভাবকরা মেয়েদের পড়ালেখায় উৎসাহিত হন এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হন।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.