জনসংখ্যা বৃদ্ধির দুটি সামাজিক কারণ হলো বাল্যবিবাহ এবং ধর্মীয় কুসংস্কার।
আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়মিত ব্যবহার না করার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের হার বেড়ে যায়, যা জন্মহার বৃদ্ধি করে এবং ফলস্বরূপ জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে যেসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা, কার্যক্রম বাস্তবায়নে তৎপরতার অভাব এবং কার্যকর প্রচারণার অভাব জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। যখন বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় থাকে না, তখন একই লক্ষ্য অর্জনে একাধিক সংস্থা কাজ করলেও ফলপ্রসূ হয় না। কার্যকর প্রচারণার অভাবে মানুষ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ও ছোটো পরিবারের সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারে না, যা জন্মহার নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানে মানবসম্পদে রূপান্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধিক জনসংখ্যা যখন অদক্ষ থাকে, তখন তা দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায় এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, নিরাপত্তা, বিনোদন প্রভৃতি সকল ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তবে এই জনসংখ্যাকে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও বাসস্থান ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। দক্ষ মানবসম্পদ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কাজে আত্মনিয়োগ করে দেশের জিডিপি বাড়াতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং দারিদ্র্য কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া, দক্ষ মানবসম্পদ বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখে। তাই, জনসংখ্যাকে বোঝা না রেখে সম্পদে রূপান্তর করাই জনসংখ্যা সমস্যার কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 7: বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিচিতি › Topic: বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ, প্রভাব ও সমাধান পদক্ষেপ
Aligned to the NCTB national curriculum.