বাংলাদেশের সংবিধানে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী হওয়ায়, এই বৃহৎ অংশকে পিছিয়ে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী পুরুষের পাশাপাশি সংসার পরিচালনা, সন্তান লালন-পালন এবং বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অপরিহার্য।
রফিকের মনোভাব বাংলাদেশের সমাজে নারীর পিছিয়ে থাকা অবস্থান ও অধিকার বঞ্চনার পরিস্থিতিকে নির্দেশ করে। এখনও অনেক পিতামাতা কন্যাশিশুকে বোঝা হিসেবে গণ্য করে এবং পুত্রসন্তানকে কন্যাসন্তানের চেয়ে অধিক গুরুত্ব দেয়। রফিকের ক্ষেত্রেও তিনি মনে করেন পুত্র উপার্জন করে খাওয়াবে, আর কন্যা বিয়ের পর চলে যাবে এবং তাকে বিয়ে দিতে খরচ হবে। এই মনোভাবের কারণে তিনি মেয়ের লেখাপড়ায় কম আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা নারীর শিক্ষা লাভের অধিকার থেকে বঞ্চনার একটি উদাহরণ।
রফিকের মতো পিতামাতার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষার বিস্তার অত্যন্ত জরুরি। সরকার উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহিত করছে। এই ধরনের কার্যক্রমের প্রচার বাড়াতে হবে। গণমাধ্যম, স্থানীয় সভা-সমিতি এবং ধর্মীয় নেতারা নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও নারীর ক্ষমতায়নের সুফল সম্পর্কে আলোচনা করতে পারেন। এছাড়াও, নারী যে শুধু গৃহস্থালি কর্মসম্পাদনে সনাতনী ভূমিকাই পালন করেন না বরং উপার্জনক্ষম কাজও করেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন, এই বিষয়গুলো তুলে ধরতে হবে। যখন পিতামাতারা দেখবেন যে মেয়েরাও ছেলেদের মতো সমানভাবে বাবা-মা, পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসছে, তখন তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.