অধিকার ব্যতীত মানুষ তার ব্যক্তিত্বকে উপলব্ধি করতে পারে না।
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর প্রধান বিষয়বস্তু হলো প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে ভরণ-পোষণের বাধ্যবাধকতার কথাও আইনে বলা হয়েছে। এটি প্রবীণদের পারিবারিক নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করে।
জনাব কামাল সাহেবের মনোভাব প্রবীণদের পারিবারিক এবং মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার সৃষ্টি করে। যখন সন্তানরা বাবা-মাকে বোঝা মনে করে এবং তাদের বৃদ্ধ নিবাসে পাঠাতে চায়, তখন প্রবীণরা পরিবারে তাদের স্থান হারান। এটি তাদের নিঃসঙ্গ ও বিমর্ষ করে তোলে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে, নিজেদের বোঝা মনে করার অনুভূতি তাদের মধ্যে এক ধরনের হীনম্মন্যতার জন্ম দেয় এবং তারা নিজেদেরকে খুব অবহেলিত ও অসহায় ভাবতে শুরু করেন। এই ধরনের মনোভাব প্রবীণদের মানসিক সুস্থতার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
জনাব কামাল সাহেবের মতো মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা উচিত। প্রথমত, সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। পরিবারে ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীলতা শেখাতে হবে। দ্বিতীয়ত, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে এবং এর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আইন লঙ্ঘনের জন্য শাস্তির বিধান সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করতে হবে। তৃতীয়ত, গণমাধ্যম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবীণদের অবদান এবং তাদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। চতুর্থত, সফল পরিবারগুলোর উদাহরণ তুলে ধরতে হবে, যেখানে প্রবীণদের সম্মান ও যত্নের সাথে রাখা হয়। এই পদক্ষেপগুলো সমাজের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনবে এবং প্রবীণদের প্রতি সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: বাংলাদেশে প্রবীণদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম (বেসরকারি ও সরকারি)
Aligned to the NCTB national curriculum.