Creative Questionmediumবাংলাদেশে নারী অধিকারসমূহ ও নারী অধিকারের গুরুত্ব

গ্রামের একটি পরিবারে কন্যাশিশুকে বোঝা হিসেবে গণ্য করা হয়। তারা মনে করে পুত্র বড় হয়ে বাবা-মাকে উপার্জন করে খাওয়াবে, সংসারের হাল ধরবে। অন্যদিকে কন্যা বিয়ের পর স্বামী বা শ্বশুরবাড়ি চলে যাবে, উপরন্তু তাকে বিয়ে দিতে গিয়ে পিতামাতাকে অনেক টাকা খরচ করতে হবে। এই মনোভাব থেকেই তারা পুত্রসন্তানকে কন্যাসন্তানের চেয়ে অধিক গুরুত্ব দেয়।

ক · জ্ঞানবাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমানাধিকার সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?1

বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

খ · অনুধাবনসন্তানের পরিচয় নির্ধারণে কী পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং এর গুরুত্ব কী?2

সন্তানের পরিচয় নির্ধারণে পূর্বে যেখানে শুধু বাবার নাম লেখার নিয়ম ছিল, বর্তমানে সেখানে মায়ের নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি নারীর প্রতি বৈষম্য দূর ও তার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের একটি বিশেষ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সমাজে নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং সন্তানের পরিচয়ে মায়ের ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

গ · প্রয়োগউদ্দীপকে বর্ণিত মনোভাব সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কোন ধরনের প্রভাব ফেলে? ব্যাখ্যা করো।3

উদ্দীপকে বর্ণিত মনোভাব সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই মনোভাবের কারণে কন্যাশিশুকে বোঝা মনে করা হয় এবং পুত্রসন্তানের চেয়ে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। এটি নারীর শিক্ষা, চিকিৎসা, পুষ্টি এবং অন্যান্য মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হয়। কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া, ভালো ছাত্রী হয়েও উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার মতো ঘটনাগুলো এই মনোভাবের ফল। এটি নারী-পুরুষের সমান অধিকারের ধারণাকে ক্ষুণ্ন করে এবং সমাজে নারীর অবস্থানকে দুর্বল করে।

ঘ · উচ্চতর দক্ষতাএই ধরনের মনোভাব পরিবর্তনের জন্য পরিবার ও সমাজের কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? বিশ্লেষণ করো।4

এই ধরনের মনোভাব পরিবর্তনের জন্য পরিবার ও সমাজের সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। পরিবারের ক্ষেত্রে, বাবা-মাকে কন্যাশিশুর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে যে মেয়েরাও ছেলেদের মতো সমানভাবে পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব নিতে পারে এবং উপার্জনক্ষম হতে পারে। শিক্ষার মাধ্যমে এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনা সম্ভব। সমাজের ক্ষেত্রে, গণমাধ্যমে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষের সমান অধিকার এবং নারীর অবদান সম্পর্কে প্রচার চালাতে হবে। বিভিন্ন সফল নারীর দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে হবে, যারা পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। নারী অধিকার বিষয়ক আইনগুলোর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়াও, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার জন্য নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যা তাদের সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে সাহায্য করবে এবং কন্যাশিশুকে বোঝা মনে করার মনোভাব দূর করবে।

Source

Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: বাংলাদেশে নারী অধিকারসমূহ ও নারী অধিকারের গুরুত্ব

Aligned to the NCTB national curriculum.