কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন প্রভৃতি গ্যাসকে একসাথে গ্রিনহাউস গ্যাস বলা হয়।
বাংলাদেশের জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন বলা হয় কারণ এখানে অনুকূল ও প্রতিকূল দুই ধরনের আবহাওয়ারই প্রভাব সমান। অনুকূল আবহাওয়ার ফলে প্রকৃতি সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা হয়, অন্যদিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, খরা, কালবৈশাখি, টর্নেডো ও অতিবৃষ্টির মতো দুর্যোগ জনদুর্ভোগ বয়ে আনে।
রেজাউল সাহেবের জমিতে আউশ ধানের ফলন কমার প্রধান কারণ হলো জলবায়ু পরিবর্তন। অধিক তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন, যেমন বর্ষাকালে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং অসময়ে অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আউশ ধান চাষের উপযোগী জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে, যা ফলন কমার কারণ।
রেজাউল সাহেবের চিন্তার কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বেশ কিছু করণীয় রয়েছে। এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বনায়ন করা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পরীক্ষা করে মাটির নিচ থেকে পানি উত্তোলন বন্ধ করা, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা, এবং সুষ্ঠু পানিব্যবস্থাপনা ও পানি ব্যবহারে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা উচিত। এছাড়াও, গ্রিনহাউস গ্যাস উদগীরণ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যা দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সহায়ক হবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 6: বাংলাদেশের জলবায়ু
Aligned to the NCTB national curriculum.