জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র অনুমোদন করেছে।
ফরাসি সেনাপতি ও রাষ্ট্রনায়ক নেপোলিয়ন বোনাপার্ট নারী অধিকারের বিষয়টি তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তির মাধ্যমে বুঝাতে চেয়ে বলেছেন, 'আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদেরকে একটি সভ্য, শিক্ষিত জাতি উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিব।'
আয়েশা পারিবারিক নির্যাতন (শারীরিক ও মানসিক) এবং কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তার স্বামী বেকার থাকা সত্ত্বেও তাকে মারধর করে, যা নারীর প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের উদাহরণ। কর্মস্থলে পুরুষের চেয়ে কম মজুরি পাওয়া তার অর্থনৈতিক অধিকারের লঙ্ঘন। এই দুটি বিষয়ই বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতির নিম্নগামী দিক নির্দেশ করে।
আয়েশার মতো নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং নারী নির্যাতন রোধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো আংশিকভাবে কার্যকর। সরকার নারী নির্যাতন ও অ্যাসিড সন্ত্রাস রোধে কঠোর আইন প্রবর্তন করেছে, যা আয়েশার উপর স্বামীর মারধর বন্ধ করতে সহায়ক হতে পারে। কর্মস্থলে মজুরি বৈষম্য রোধে 'সরকারি চাকরি লাভে নারী-পুরুষের অধিকার সমান এবং এক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা যাবে না' নীতিটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন। তবে আয়েশার মতো নারীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হলে এই আইন ও নীতিগুলোর সুফল তারা সম্পূর্ণভাবে ভোগ করতে পারবে না। তাই শিক্ষার বিস্তার ও সচেতনতা সৃষ্টি ছাড়া অবস্থার পুরোপুরি পরিবর্তন সম্ভব নয়। বিভিন্ন সভা-সমিতি-সংগঠন ও আন্দোলনের মাধ্যমে নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং তাদের আইনি সহায়তা প্রদানে উৎসাহিত করা জরুরি।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.