নারী অধিকার হলো নারীর জন্য প্রদত্ত সেই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা, যা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
জাতিসংঘের মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বয়স, লিঙ্গ, আর্থিক অবস্থাভেদে বিশ্বের সব দেশের সব মানুষের এসব অধিকার পাওয়ার অধিকার আছে। এদের মধ্যে একটি বিশেষ অধিকার হলো, নারী-পুরুষের সমান অধিকার।
ফাতেমা বেগম কর্মক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। অর্থনৈতিকভাবে, তিনি পুরুষের সমান কাজ করেও কম বেতন পান। সামাজিকভাবে, তার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং তাকে বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হতে হয়, যা সমাজে নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।
ফাতেমা বেগমের মতো নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেশ কিছু সুপারিশ বা পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। সংবিধানে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ সংক্রান্ত জাতিসংঘ সনদেও এর কথা বলা হয়েছে। সরকার উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছে। কর্মস্থলে নারীর মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করা হয়েছে। এছাড়াও, নারী নির্যাতন ও অ্যাসিড সন্ত্রাস রোধে কঠোর আইন প্রবর্তন করা হয়েছে। সমাজে শিক্ষার বিস্তার ও সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি যাতে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয় এবং তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে সমান কাজের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত করা এবং নারীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.