বাংলাদেশের সংবিধানে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার কথা বলা হয়েছে।
নারী-পুরুষের সমান অধিকার বলতে পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে অর্থাৎ জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমান অধিকারের কথা বোঝানো হচ্ছে। শুধু ভোট প্রদান বা নির্বাচনে দাঁড়াবার সুযোগের বেলায়ই পুরুষ ও নারী যে সমান তা নয়, বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা, চাকরি বা কর্মসংস্থান, বেতন বা মজুরি সব ব্যাপারেই নারী ও পুরুষ সমান সুযোগ লাভের অধিকারী।
ফরিদা বেগম তার কাজের মাধ্যমে নারী অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন যে, একজন শিক্ষিত, স্বাবলম্বী ও সচেতন নারী ঘরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, নারী শুধু গৃহস্থালি কর্মসম্পাদনে সনাতনী ভূমিকাই পালন করেন না, বরং উপার্জনক্ষম কাজও করেন এবং বিভিন্ন শিল্প, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রতিরক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। গোটা নারীসমাজকে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, চলাফেরা ও মতপ্রকাশের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন, যা পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অপরিহার্য।
ফরিদা বেগমের মতো ব্যক্তিদের কার্যক্রম সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। সমাজের শিক্ষার বিস্তার ও সচেতনতা সৃষ্টি ছাড়া নারীর অবস্থার পুরোপুরি পরিবর্তন সম্ভব নয়। ফরিদা বেগমের মতো ব্যক্তিরা সভা-সমিতি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতা দূর করতে এবং নারীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে সাহায্য করেন। তাদের এই প্রচেষ্টা নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের বিভিন্ন সভা-সমিতি-সংগঠন ও আন্দোলনে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করে। এর ফলে নারীরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে রাষ্ট্রগঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে এবং মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বিবেচিত হয়।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.