Creative Questionmedium

বাংলাদেশ পৃথিবীর উপক্রান্তীয় (Sub-tropical) অঞ্চলে অবস্থিত। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থেকে জলজ মেঘমালা উৎপন্ন হয়। সেই মেঘমালা মৌসুমি বায়ুবাহিত হয়ে উত্তরের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে বাধা পেয়ে প্রচুর বৃষ্টি ঝরায়। আবার এই পর্বতমালা দেয়ালের মতো শীতকালে সাইবেরিয়ার হিমশীতল বায়ু প্রবাহ আটকে দেয়, ফলে শীতও কম হয়।

ক · জ্ঞানউপক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত দেশ কোনটি?1

বাংলাদেশ পৃথিবীর উপক্রান্তীয় (Sub-tropical) অঞ্চলে অবস্থিত।

খ · অনুধাবনবাংলাদেশের নদী অববাহিকাগুলোতে কোন মাটির প্রাধান্য দেখা যায়?2

বাংলাদেশের নদী অববাহিকাগুলোতে বেলে-দোআঁশ মাটির প্রাধান্য দেখা যায়।

গ · প্রয়োগউদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।3

উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হলো এটি উপক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত এবং মৌসুমি বায়ু দ্বারা প্রভাবিত। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থেকে উৎপন্ন জলজ মেঘমালা মৌসুমি বায়ুবাহিত হয়ে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে বাধা পেয়ে প্রচুর বৃষ্টি ঝরায়। আবার হিমালয় পর্বতমালা শীতকালে সাইবেরিয়ার হিমশীতল বায়ু প্রবাহ আটকে দেয়, ফলে শীতও কম হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশের জলবায়ুকে উষ্ণ-আর্দ্র ও জীববৈচিত্র্যপূর্ণ করে তোলে।

ঘ · উচ্চতর দক্ষতাবাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান কীভাবে এর কৃষিজ উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনয়নে সহায়তা করে— বিশ্লেষণ কর।4

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এর কৃষিজ উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পৃথিবীর উপক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও উত্তরে হিমালয় পর্বতমালার উপস্থিতির কারণে এখানে মৌসুমি জলবায়ু বিরাজ করে, যা প্রচুর বৃষ্টিপাত ও সহনীয় শীতকাল নিশ্চিত করে। এই অনুকূল জলবায়ু ধান, পাট, গম, আখ, বিভিন্ন ডাল, ফল, ফুল, শাক-সবজি, মসলা, ঔষধি গাছসহ বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ জন্মানোর জন্য উপযুক্ত। এছাড়াও, নদী বিধৌত দেশ হওয়ায় মিঠা পানির মাছের বৈচিত্র্যও ব্যাপক। বেলে-দোআঁশ, লালচে এঁটেল ও জৈব পদার্থযুক্ত মাটির ভিন্নতাও কৃষিজ উৎপাদনকে বৈচিত্র্যময় করে তোলে। তাই, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানই এর কৃষিজ উৎপাদনে বহুমুখী বৈচিত্র্যের মূল কারণ।

Source

Class 7 › কৃষিশিক্ষা › Chapter 1: কৃষি এবং আমাদের সংস্কৃতি

Aligned to the NCTB national curriculum.