মৃত্যুকে সম্রাট তার বুকের ওপর বসে থাকতে দেখেছিলেন, যার মাথায় সম্রাটেরই সোনার মুকুট, এক হাতে তরোয়াল এবং অন্য হাতে ঝকঝকে নিশান ছিল।
কলের পাখি গান গাইতে পারল না কারণ তাকে দম দেওয়ার কেউ ছিল না এবং দম না দিলে সে গাইবে না।
আসল কোকিলের ফিরে আসার ঘটনাটি গল্পের এই মূল শিক্ষাকে সমর্থন করে যে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নিঃস্বার্থ উপকার যন্ত্রের চাকচিক্যের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান ও শক্তিশালী। এটি দেখায় যে প্রকৃত উপকারী ব্যক্তি কোনো প্রতিদানের আশা না করে বিপদের সময় ফিরে আসে এবং তার মানবিক মূল্যবোধ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে।
মৃত্যুর হাত থেকে রাজাকে বাঁচাতে কোকিলের গান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোকিলের আশ্চর্য মধুর গান সম্রাটের দুর্বল শরীরে রক্ত উষ্ণ করে জোরে বইতে শুরু করে। এই গান এতটাই প্রাণবন্ত ছিল যে মৃত্যুও কান পেতে শুনল এবং গান শোনার লোভে একে একে সম্রাটের সোনার তরোয়াল, ঝকঝকে নিশান ও মুকুট ফিরিয়ে দিল। কোকিলের গান সম্রাটের মনে শান্তি ও আশা ফিরিয়ে এনেছিল, যা তাকে মৃত্যুভীতি থেকে মুক্তি দিয়েছিল এবং নতুন জীবন দিয়েছিল। এটি প্রমাণ করে যে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার শক্তি মৃত্যুর ভয়কেও জয় করতে পারে।
Class 7 › আনন্দপাঠ › Chapter 6: কোকিল › Topic: কোকিলের মধুর গান
Aligned to the NCTB national curriculum.