CQকোকিলের মধুর গান
রাজা তার প্রধান অমাত্যকে ডেকে কোকিলকে সান্ধ্যভোজে গান গাওয়ার আদেশ দিলেন। যদি কোকিল না আসে, তবে সব সভাসদকে হাতির নিচে ফেলে মেরে ফেলার হুমকি দিলেন। প্রধান অমাত্য ভীত হয়ে কোকিলকে খুঁজতে লাগলেন এবং শেষ পর্যন্ত রান্নাঘরের এক ছোটো মেয়ের কাছে কোকিলের সন্ধান পেলেন। মেয়েটি বলল যে সে রোজ কোকিলের গান শোনে এবং তা খুব ভালো গায়। মেয়েটির সাহায্যে মন্ত্রী, সেনাপতি, উজির, নাজির, হাকিম, পেশকার সবাই মিলে বনে গেল। তারা অনেক কষ্টে ঘন ডালের আড়ালে কালো কোকিলকে দেখতে পেল।
CQকোকিলের মধুর গান
এক বছর কেটে গেল। কলের পাখির গানের প্রতিটি টান সম্রাট, তার পারিষদ ও প্রত্যেক চীনের মুখস্থ হয়ে গেল। একদিন কলের পাখি গেয়ে চলছিল, হঠাৎ তার ভেতরে 'গর্র্, কী যে একটা ছিঁড়ে গেল-' 'গঁ-গ- গর্' শব্দ হলো, সবগুলো চাকা একবার ঘুরে এল, তারপর গান থেমে গেল। সম্রাট লাফিয়ে উঠলেন এবং দেহ-পুরোহিতকে ডাকলেন। পরে ঘড়িওয়ালাকে ডাকা হলো। অনেক চেষ্টার পর পাখিটাকে মেরামত করা গেল বটে, কিন্তু ঘড়িওয়ালা বলে গেল একে যেন খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করা হয়, কলকব্জা খারাপ হয়ে গেছে এবং নতুন বসানো যাবে না। এরপর থেকে বছরে একবারের বেশি একে গাওয়ানো যাবে না, আর তাও না-গাওয়ালেই ভালো।
CQকোকিলের মধুর গান
অতি কষ্টে সম্রাটের নিশ্বাস পড়ছিল। তিনি চোখ মেলে দেখলেন তার বুকের ওপর মৃত্যু বসে আছে, তার মাথায় সম্রাটেরই সোনার মুকুট, এক হাতে তার তরোয়াল, অন্য হাতে তার ঝকঝকে নিশান। সম্রাট 'গান! গান!' বলে উঠলেন। কিন্তু কলের পাখিটা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল, কারণ তাকে দম দেওয়ার কেউ ছিল না। হঠাৎ জানালার দিক থেকে বেজে উঠল আশ্চর্য মধুর গান। এ সেই আসল কোকিল, জানালার বাইরে গাছের ডালে বসে সে গাইছে। সে শুনেছিল সম্রাট ভালো নেই, তাই সে এসেছে তাকে শান্তি দিতে, আশা দিতে।