আনন্দপাঠ · Class 7 · Chapter 3
খোকা স্কুল থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় গলির ভেতরের আবছা আলোয় পথ চিনতে তার বেশ অসুবিধে হচ্ছিল। গলির মাঝামাঝি আসতেই হঠাৎ একটি শব্দ তার কানে এলো। সে থমকে দাঁড়াল এবং এক মিনিট পরেই তার বুক ধড়াস করে উঠল। ভয়ে তার হাঁটু কাঁপতে লাগল। সে মনে সাহস ফিরিয়ে এনে পা টিপে টিপে একটি পুরোনো বাড়ির জানালার কাছে গেল।
মিথিলা নামের এক মেয়ে একটি গল্পের বই পড়ছিল। বইটিতে একজন গোয়েন্দা তার বুদ্ধি খাটিয়ে একটি জটিল সমস্যার সমাধান করছিল। মিথিলা বইটি পড়তে পড়তে এতটাই প্রভাবিত হলো যে, সে নিজেকেই সেই গোয়েন্দা হিসেবে কল্পনা করতে শুরু করল। সে মনে মনে ভাবল, 'আমি যদি কোনো রহস্যের মুখোমুখি হই, তাহলে আমি আমার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তার সমাধান করব।'
স্কুল থেকে ফিরে রিফাত তার বন্ধুদের সাথে গল্প করছিল। সে বলল, 'আমি সেদিন পথে একটি পুরোনো বাড়ির ভেতর থেকে অদ্ভুত শব্দ শুনতে পেলাম। মনে হচ্ছিল যেন কোনো গোপন বৈঠক চলছে। আমি তখন মনে মনে ভাবলাম, আমিই হয়তো ডিটেকটিভ সত্যেন ঘোষ। আমাকেই এই রহস্যের সমাধান করতে হবে।'
রফিক একটি নাট্যদলের সদস্য। তারা নতুন একটি নাটক মঞ্চস্থ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। নাটকের একটি দৃশ্যে একজন চরিত্রকে ভয় দেখানোর জন্য রিভলবার ব্যবহার করা হচ্ছিল। পথচারী এক ছেলে দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে এটিকে বাস্তব খুনের ঘটনা মনে করে দ্রুত থানায় খবর দেয়। পুলিশ এসে দেখে এটি আসলে নাটকের মহড়া।
সুমন নামের এক কিশোর তার বন্ধুর সাথে একটি ডিটেকটিভ বই পড়ছিল। বইটিতে একজন গোয়েন্দা একটি জটিল রহস্যের সমাধান করছিল। সুমন বইটি পড়তে পড়তে এতটাই মগ্ন হয়ে গেল যে, সে নিজেকেই সেই গোয়েন্দা হিসেবে কল্পনা করতে শুরু করল। সে তার বন্ধুকে বলল, 'দেখিস, একদিন আমিও এমন দুঃসাহসিক অভিযানে যাব এবং সব অপরাধীকে ধরে ফেলব।'
রাজু নামের এক কিশোর তার বন্ধুর সঙ্গে একটি পুরাতন বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ তারা দেখল, বাড়ির ভেতর থেকে কিছু লোক বেরিয়ে আসছে এবং তাদের একজন অন্যকে বলছে, 'একটুও শব্দ হবে না, একেবারে আধুনিক যন্ত্র, সামান্য একটু হিস। তারপরেই ব্যস।' রাজু মনে করল, 'এ নিশ্চয়ই কোনো গোপন হত্যার পরিকল্পনা।'
রহিম নামের এক ছাত্র স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি অন্ধকার গলির ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল। সেখানে সে একটি পুরোনো বাড়ির ভেতর থেকে অদ্ভুত শব্দ শুনতে পেল। সে মনে মনে ভাবল, 'এ নিশ্চয়ই কোনো রহস্যময় ঘটনা। আমাকেই এর সমাধান করতে হবে।' সে দ্রুত তার মোবাইল ফোন বের করে পুলিশকে খবর দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হলো।
জাহিদ তার ছোট ভাই সজীবকে বলল, 'শোন, কোনো বিষয়েই সীমাহীন ঝোঁক বা নেশা কারো জন্য শুভফল বয়ে আনে না। অতিরিক্ত কোনো কিছুতে মগ্ন হলে বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে যেতে হয়।'
শিক্ষক ক্লাসে বললেন, 'অতিরিক্ত কোনো কিছুর প্রতি আসক্তি আমাদের জন্য ভালো নয়। এটি আমাদের বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় সমস্যা তৈরি করে। যেমন, একজন ছাত্র অতিরিক্ত গোয়েন্দা কাহিনি পড়ে বাস্তব ঘটনাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছিল।'