'খুদে গোয়েন্দার অভিযান' গল্পটির লেখক শহীদ সাবের।
রহিম সম্ভবত অতিরিক্ত গোয়েন্দা কাহিনি পড়ত এবং নিজেকে সেইসব গল্পের গোয়েন্দা চরিত্রের মতো মনে করত। অন্ধকার গলি এবং অদ্ভুত শব্দ শুনে সে এটিকে একটি রহস্যময় ঘটনা হিসেবে কল্পনা করে এবং নিজেকেই এর সমাধানকারী হিসেবে ভাবতে শুরু করে।
রহিমের এই কাজের প্রস্তুতি 'খুদে গোয়েন্দার অভিযান' গল্পের খোকার পদক্ষেপের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। খোকাও যেমন একটি নাটকের মহড়াকে খুনের ঘটনা ভেবে দ্রুত থানায় খবর দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল এবং ওসিকে ঘটনা খুলে বলেছিল, রহিমও তেমনি একটি অদ্ভুত ঘটনাকে রহস্যময় ভেবে পুলিশকে খবর দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। উভয় ক্ষেত্রেই তারা অতিকল্পনার বশবর্তী হয়ে কাজ করছে।
অন্ধকার ও অদ্ভুত শব্দের প্রেক্ষাপটে রহিমের মতো কিশোরদের মনের ওপর কল্পনার প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী। অন্ধকার পরিবেশ মানুষের স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধিকে কিছুটা আচ্ছন্ন করে দেয় এবং অদ্ভুত শব্দ আরও রহস্যময়তা যোগ করে। এই পরিস্থিতিতে, যদি কোনো কিশোর অতিরিক্ত গোয়েন্দা কাহিনি পড়ে থাকে, তবে তার মন দ্রুত কাল্পনিক অপরাধ বা রহস্যের দৃশ্য তৈরি করে। রহিম অন্ধকার গলিতে অদ্ভুত শব্দ শুনে এটিকে রহস্যময় ঘটনা ভেবেছে, যা তার মনের কাল্পনিক জগৎ দ্বারা প্রভাবিত। 'খুদে গোয়েন্দার অভিযান' গল্পের খোকাও অন্ধকার গলিতে নাটকের মহড়াকে খুন ভেবেছিল। এই ধরনের পরিস্থিতিতে, কল্পনা বাস্তবতাকে ছাপিয়ে যায় এবং কিশোররা ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে, কারণ তাদের মস্তিষ্ক অসম্পূর্ণ তথ্য থেকে একটি সম্পূর্ণ (কিন্তু ভুল) গল্প তৈরি করার চেষ্টা করে।
Class 7 › আনন্দপাঠ › Chapter 3: খুদে গোয়েন্দার অভিযান › Topic: খোকার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরা ও গলিতে রহস্যের সন্ধান
Aligned to the NCTB national curriculum.