আনন্দপাঠ · Class 7
জাহিদ তার ছোট ভাই সজীবকে বলল, 'শোন, কোনো বিষয়েই সীমাহীন ঝোঁক বা নেশা কারো জন্য শুভফল বয়ে আনে না। অতিরিক্ত কোনো কিছুতে মগ্ন হলে বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে যেতে হয়।'
স্কুল থেকে ফিরে রিফাত তার বন্ধুদের সাথে গল্প করছিল। সে বলল, 'আমি সেদিন পথে একটি পুরোনো বাড়ির ভেতর থেকে অদ্ভুত শব্দ শুনতে পেলাম। মনে হচ্ছিল যেন কোনো গোপন বৈঠক চলছে। আমি তখন মনে মনে ভাবলাম, আমিই হয়তো ডিটেকটিভ সত্যেন ঘোষ। আমাকেই এই রহস্যের সমাধান করতে হবে।'
খোকা স্কুল থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় গলির ভেতরের আবছা আলোয় পথ চিনতে তার বেশ অসুবিধে হচ্ছিল। গলির মাঝামাঝি আসতেই হঠাৎ একটি শব্দ তার কানে এলো। সে থমকে দাঁড়াল এবং এক মিনিট পরেই তার বুক ধড়াস করে উঠল। ভয়ে তার হাঁটু কাঁপতে লাগল। সে মনে সাহস ফিরিয়ে এনে পা টিপে টিপে একটি পুরোনো বাড়ির জানালার কাছে গেল।
মিথিলা নামের এক মেয়ে একটি গল্পের বই পড়ছিল। বইটিতে একজন গোয়েন্দা তার বুদ্ধি খাটিয়ে একটি জটিল সমস্যার সমাধান করছিল। মিথিলা বইটি পড়তে পড়তে এতটাই প্রভাবিত হলো যে, সে নিজেকেই সেই গোয়েন্দা হিসেবে কল্পনা করতে শুরু করল। সে মনে মনে ভাবল, 'আমি যদি কোনো রহস্যের মুখোমুখি হই, তাহলে আমি আমার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তার সমাধান করব।'
আকাশ নামের এক স্কুলছাত্র তার বন্ধুদের সঙ্গে একটি পুরোনো নাট্যমঞ্চে গিয়েছিল। সেখানে তারা দেখল কয়েকজন অভিনেতা মহড়া দিচ্ছে। একজন অভিনেতা অন্য একজনকে রিভলবার দেখিয়ে হুমকি দিচ্ছে এবং তাকে একটি দলিলে সই করতে বলছে। আকাশ হঠাৎ করে ভয় পেয়ে গেল এবং এটিকে একটি অপরাধমূলক ঘটনা ভেবে তার অভিভাবকদের জানাতে চাইল।
নাসির তার বন্ধুদের সাথে গোয়েন্দা কাহিনি নিয়ে আলোচনা করছিল। সে বলল, 'আমি জানি যে, দীনেন রায়ের ব্লেক বা সত্যেন ঘোষের মতো গোয়েন্দারা যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত কর্তব্য স্থির করতে পারে। আমি যখন কোনো জটিল পরিস্থিতিতে পড়ব, তখন তাদের মতোই সিদ্ধান্ত নেব।'
সুমন নামের এক কিশোর তার বন্ধুর সাথে একটি ডিটেকটিভ বই পড়ছিল। বইটিতে একজন গোয়েন্দা একটি জটিল রহস্যের সমাধান করছিল। সুমন বইটি পড়তে পড়তে এতটাই মগ্ন হয়ে গেল যে, সে নিজেকেই সেই গোয়েন্দা হিসেবে কল্পনা করতে শুরু করল। সে তার বন্ধুকে বলল, 'দেখিস, একদিন আমিও এমন দুঃসাহসিক অভিযানে যাব এবং সব অপরাধীকে ধরে ফেলব।'
সীমা একটি পুরোনো বাড়িতে নাটকের মহড়া দেখছিল। সেখানে একজন অভিনেতা দলিলে স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ায় অন্য একজন তাকে রিভলবার দেখিয়ে হুমকি দিচ্ছিল। সীমা হঠাৎ করে এটিকে বাস্তব ঘটনা ভেবে তার ভাইকে বলল, 'ভাইয়া, ওরা লোকটাকে মেরে ফেলবে! আমাদের কিছু একটা করতে হবে!'
রতন নামের এক কিশোর প্রচুর ডিটেকটিভ বই পড়ে। তার প্রিয় লেখক হলেন কনান ডয়েল এবং আগাথা ক্রিস্টি। একদিন সে একটি পুরোনো বাড়িতে কিছু লোককে দেখে, যারা একজন ব্যক্তিকে ঘিরে রেখেছে এবং একজন রিভলবার নাড়িয়ে তাকে কিছু কাগজে সই করতে বলছে। রতন মনে মনে নিজেকে একজন নির্ভীক গোয়েন্দা সুব্রত কল্পনা করে এবং লোকটিকে বাঁচানোর জন্য দ্রুত পুলিশ ডাকার সিদ্ধান্ত নেয়।
রফিক একটি নাট্যদলের সদস্য। তারা নতুন একটি নাটক মঞ্চস্থ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। নাটকের একটি দৃশ্যে একজন চরিত্রকে ভয় দেখানোর জন্য রিভলবার ব্যবহার করা হচ্ছিল। পথচারী এক ছেলে দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে এটিকে বাস্তব খুনের ঘটনা মনে করে দ্রুত থানায় খবর দেয়। পুলিশ এসে দেখে এটি আসলে নাটকের মহড়া।
আবির নামের এক কিশোর একটি নাট্যদলের মহড়া দেখছিল। সেখানে একজন অভিনেতা খুব আবেগপ্রবণ হয়ে সংলাপ বলছিল, 'না, ও কাজ আমাকে দিয়ে হবে না।' অন্য একজন অভিনেতা কঠিন কণ্ঠে বলল, 'করতেই হবে তোমাকে। নইলে দেখতেই তো পাচ্ছ-!' আবির মনে করল, 'এ নিশ্চয়ই কোনো সত্যিকারের ঘটনা।'
ফরাক্কাবাদের ওসি সাহেব খোকাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার পর পরদিন সংবাদপত্রে একটি খবর প্রকাশিত হলো। সেই খবরে বলা হয়েছিল যে, আইঢাই অভিনেতা সঙ্ঘের নাটকের মহড়ায় পুলিশ হানা দিয়েছিল এবং এই খবরটি সৈফুদ্দীন ওরফে খোকাবাবু নামের এক বালকের ভুল তথ্যের কারণে ঘটেছিল।
রাজু নামের এক কিশোর তার বন্ধুর সঙ্গে একটি পুরাতন বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ তারা দেখল, বাড়ির ভেতর থেকে কিছু লোক বেরিয়ে আসছে এবং তাদের একজন অন্যকে বলছে, 'একটুও শব্দ হবে না, একেবারে আধুনিক যন্ত্র, সামান্য একটু হিস। তারপরেই ব্যস।' রাজু মনে করল, 'এ নিশ্চয়ই কোনো গোপন হত্যার পরিকল্পনা।'
সপ্তম শ্রেণির ছাত্র হাসান গোয়েন্দা কাহিনির একজন অনুরাগী পাঠক। সে মোহন সিরিজ, সেক্রটন ব্লেক এবং নীহার গুপ্তের প্রায় সব বই পড়ে ফেলেছে। একদিন সে তার বন্ধুর বাড়িতে একটি নাটকের মহড়া দেখতে যায়। সেখানে সে দেখে একজন অভিনেতা একটি দলিলে স্বাক্ষর করতে রাজি হচ্ছে না এবং অন্য একজন অভিনেতা তাকে রিভলবার দেখিয়ে হুমকি দিচ্ছে। হাসান সঙ্গে সঙ্গেই এটিকে একটি বাস্তব খুনের ঘটনা ভেবে দ্রুত থানায় খবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
রেজাউল নামের এক ছাত্র একদিন একটি নাটকের মহড়া দেখছিল। সেখানে সে দেখল একজন অভিনেতা একটি দলিলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে এবং অন্য একজন তাকে ভয় দেখাচ্ছে। রেজাউল তখন তার বন্ধুদের বলল, 'এই লোকটা নিশ্চয়ই কোনো বড়ো অপরাধী। একে ধরা দরকার।'
রহিম নামের এক ছাত্র স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি অন্ধকার গলির ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল। সেখানে সে একটি পুরোনো বাড়ির ভেতর থেকে অদ্ভুত শব্দ শুনতে পেল। সে মনে মনে ভাবল, 'এ নিশ্চয়ই কোনো রহস্যময় ঘটনা। আমাকেই এর সমাধান করতে হবে।' সে দ্রুত তার মোবাইল ফোন বের করে পুলিশকে খবর দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হলো।
সজীব তার অবসর সময়ে প্রচুর গোয়েন্দা কাহিনি পড়ে। একদিন সে তার এক বন্ধুকে বলল, 'আমি মোহন সিরিজ, সেক্রটন ব্লেক এবং কনান ডয়েলের সব বই শেষ করেছি। এখন আগাথা ক্রিস্টির বই শুরু করতে চাই, কিন্তু ইংরেজি না জানায় পারছি না।'
সাদিয়া নামের একটি মেয়ে তার বন্ধুদের বলল, 'আমি দেখেছি যে, অনেক সময় মানুষ ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিপদে পড়ে। যদি আমরা বাস্তব ও কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করতে না পারি, তাহলে আমাদের জীবনে অনেক বিড়ম্বনা সৃষ্টি হতে পারে।'
একদিন রাতে সোহেল তার বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। হঠাৎ একটি পুরোনো বাড়ির ভেতর থেকে সে কিছু অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পেল। অন্ধকারে সে দেখল কয়েকজন লোক একজন ব্যক্তিকে ধরে আছে এবং তার সাথে তর্ক করছে। সোহেল মনে মনে ভাবল, 'এ নিশ্চয়ই কোনো অপরাধের ঘটনা। আমাকে এক্ষুনি কিছু করতে হবে!'
শিক্ষক ক্লাসে বললেন, 'অতিরিক্ত কোনো কিছুর প্রতি আসক্তি আমাদের জন্য ভালো নয়। এটি আমাদের বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় সমস্যা তৈরি করে। যেমন, একজন ছাত্র অতিরিক্ত গোয়েন্দা কাহিনি পড়ে বাস্তব ঘটনাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছিল।'