বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · Class 7 · Chapter 9
রফিক সাহেব তার স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে শহরে থাকেন। তার গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা একা থাকেন। রফিক সাহেব তার বাবা-মায়ের দেখাশোনার জন্য একজন লোক রেখেছেন, কিন্তু তিনি জানেন যে তার বাবা-মা নিঃসঙ্গতা ও একাকীত্বে ভুগছেন। তিনি মনে করেন, কর্মব্যস্ততার কারণে তার পক্ষে বাবা-মায়ের সাথে বেশি সময় কাটানো সম্ভব হয় না, যা তাদের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রফিক সাহেব তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে একটি ছোট পরিবারে বাস করেন। তার স্ত্রীও কর্মজীবী। তারা দুজনেই কর্মব্যস্ত থাকায় বাবা-মার দেখাশোনা, গল্পগুজব করা বা অসুস্থ অবস্থায় সেবাযত্ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পান না। রফিক সাহেব মনে করেন, একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে যাওয়ায় এই ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
করিম সাহেব তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে পরিবারের বোঝা মনে করেন। তাদের দেখাশোনা বা অসুখ-বিসুখে সেবাযত্নের লোকের অভাব ঘটছে। তিনি মনে করেন, শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে একান্নবর্তী পরিবারগুলো ভেঙে যাওয়ায় এই ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
শিরিন বেগম (৪০) একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সম্প্রতি তিনি সন্তান প্রসব করেছেন এবং তার কর্মস্থলে মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। তার মালিক তাকে মাত্র তিন মাসের ছুটি দিতে রাজি, যা সরকারি নিয়মের পরিপন্থী।
৭০ বছর বয়সী জনাব করিম সাহেব সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর নিজ বাড়িতে বসবাস করছেন। তার তিন ছেলেমেয়ে রয়েছে, যারা সবাই উচ্চশিক্ষিত এবং স্বাবলম্বী। কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা নিজেদের কর্মব্যস্ততার কারণে তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারে না। ফলে তিনি প্রায়শই একাকীত্বে ভোগেন এবং নিজেকে অবহেলিত মনে করেন। তার শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে চিকিৎসা খরচ নিয়েও সমস্যা হয়।
রেবেকা বেগম একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তিনি মনে করেন তার অবসর জীবনটি পরিবারের সাথে কাটানো উচিত। কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা নিজেদের কর্মব্যস্ততার কারণে তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারে না। ফলে রেবেকা বেগম প্রায়ই নিঃসঙ্গতা ও মনস্তাত্ত্বিক সমস্যায় ভোগেন। তিনি চান তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সমাজের কাজে লাগাতে, কিন্তু তেমন সুযোগ পাচ্ছেন না।
রফিক সাহেব তার ৬০ বছর বয়সে এসে দেখেন তার অনেক পুরনো বন্ধু ও সহকর্মী মারা গেছেন বা গুরুতর অসুস্থ। তিনি নিজেও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি মনে করেন, এই বয়সে মানুষের একটু বিশ্রাম ও আরামের প্রয়োজন হয়, কিন্তু তার পরিবারে তা সম্ভব নয়।
রহিম সাহেব সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর একান্নবর্তী পরিবারে বসবাস করতেন। তাঁর ছেলে-মেয়েদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হওয়ায় তিনি বেশ সুখেই ছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর তাঁর বড় ছেলে কাজের সূত্রে বিদেশে চলে যায় এবং ছোট ছেলে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আলাদা পরিবার গঠন করে। ফলে রহিম সাহেব একা হয়ে পড়েন এবং অর্থনৈতিকভাবেও সমস্যায় পড়েন।