বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · Class 7 · Chapter 9
জনাব মজিবুর রহমান একজন ৭০ বছর বয়সী প্রবীণ। তিনি তার গ্রামের বাড়িতে একাকী থাকেন। তার ছেলেমেয়েরা শহরে থাকে এবং কর্মব্যস্ততার কারণে খুব কমই গ্রামে আসতে পারে। মজিবুর রহমান মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার দেখাশোনা করার কেউ থাকে না। তিনি মনে করেন, তার একটু সঙ্গ এবং যত্নের প্রয়োজন।
রাশেদ সাহেব একজন প্রবীণ ব্যক্তি। তিনি তার অবসর জীবনে ধর্মীয় ও সামাজিক কাজকর্মে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে চান। তিনি মনে করেন, প্রবীণদেরও সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকা উচিত।
শহরের একটি বৃদ্ধাশ্রমে অনেক প্রবীণ ব্যক্তি বসবাস করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সন্তানদের দ্বারা পরিত্যক্ত, কেউবা নিঃসঙ্গতার কারণে এখানে এসেছেন। বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ তাদের স্বাস্থ্যসেবা, চিত্তবিনোদন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপনের ব্যবস্থা করে।
মিজান সাহেব একজন প্রবীণ ব্যক্তি। তিনি মনে করেন প্রবীণদের দৈহিক, মানসিক ও আবেগীয় ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা পাবার অধিকার আছে। তিনি চান মানবিক ও নিরাপত্তামূলক পরিবেশে থাকতে এবং আশ্রয়, পরিচর্যা বা চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার ভোগ করতে।
আশি বছর বয়সী জনাব আকবর আলী একান্নবর্তী পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন এবং সেখানে প্রবীণদের বিশেষ কর্তৃত্ব ছিল। কিন্তু এখন তিনি দেখেন যে শিল্পায়ন ও নগরায়ণের প্রভাবে পরিবারগুলো ছোট হয়ে যাচ্ছে এবং প্রবীণদের মতামতকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তিনি এই পরিবর্তনের কারণে নিঃসঙ্গ ও বিমর্ষ বোধ করেন।
গ্রামের দুস্থ ও অসহায় প্রবীণদের জন্য সরকার প্রতি মাসে ভাতা প্রদান করছে। গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী রফিক মিয়া এবং ৬২ বছর বয়সী রহিমা বেগম এই ভাতার আওতায় এসেছেন। একই সাথে, সরকার উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছে।
রহিম সাহেব (৬৮) একজন গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং তার স্মৃতিবিভ্রমও হয়। তার ছেলেমেয়েরা শহরে থাকে এবং তার দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। তিনি প্রায়ই নিজেকে অসহায় ও অবহেলিত মনে করেন।
সীমা (৭২) একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তিনি মনে করেন সমাজে এখন প্রবীণদের মতামতের গুরুত্ব কমে গেছে এবং তাদের পাশে বসে গল্প করার সময়ও যেন কারো নেই। তিনি মাঝে মাঝে হীনম্মন্যতায় ভোগেন এবং নিজেকে সমাজের বোঝা মনে করেন। তার শারীরিক শক্তিও আগের মতো নেই।
জনাব শফিক (৬৬) একজন অবসরপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি অবসরের পর বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মনে করেন, প্রবীণদের জন্য চিত্তবিনোদন ও সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত।
রাশেদা বেগম (৭২) একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তিনি মনে করেন, সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে প্রবীণদের প্রতি সম্মান কমে গেছে। তিনি চান তার অভিজ্ঞতা সমাজের কাজে লাগাতে, কিন্তু তেমন সুযোগ পান না।
জনাব রহমান (৭৮) একজন অসুস্থ প্রবীণ ব্যক্তি। তার পরিবারের সদস্যরা তার প্রতি উদাসীন। তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবাযত্ন পান না। তার শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।
জনাব কামাল (৭২) একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তিনি প্রতি মাসে অবসর ভাতা পান। এই ভাতা তাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী থাকতে সাহায্য করে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের সরকারি কার্যক্রম প্রবীণদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জনাব মমিনুল ইসলাম (৬২) একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। অবসরের পর তিনি মনে করেন, সমাজে প্রবীণদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি তার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান সমাজের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চান, কিন্তু কোনো প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পান না। তিনি মাঝে মাঝে একাকীত্বে ভোগেন।
জনাব রহমান একজন অবসরপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, তার বয়স ৬৫ বছর। তিনি তার অবসরকালীন সময়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তার এই সক্রিয়তা দেখে গ্রামের অন্যান্য প্রবীণরাও উৎসাহিত হচ্ছেন।
জনাব হোসেন একজন প্রবীণ ব্যক্তি। তিনি তার গ্রামে একটি প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে চান। তিনি মনে করেন, এর মাধ্যমে প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, পুনর্বাসন ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
মিসেস সালমা তার বৃদ্ধ শাশুড়িকে নিয়ে সমস্যায় আছেন। শাশুড়ি প্রায়ই স্মৃতিবিভ্রমের কারণে অস্বাভাবিক আচরণ করেন এবং তাকে একা রেখে কর্মস্থলে যাওয়া সালমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। সালমা মনে করেন, প্রবীণদের এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার জন্য বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন।
মিসেস রেহানা (৬৭) একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা। তিনি দীর্ঘকাল ধরে সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত আছেন। সম্প্রতি তিনি একটি স্থানীয় নীতি নির্ধারণী সভায় অংশ নিতে ইচ্ছুক, কিন্তু এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মনে করেন প্রবীণদের এসব বিষয়ে নাক গলানো ঠিক নয়।
এক সময় গ্রামের পরিবারগুলোতে প্রবীণদের মতামতকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে শিল্পায়ন ও নগরায়ণের প্রভাবে একান্নবর্তী পরিবারগুলো ভেঙে ছোটো পরিবারে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে প্রবীণদের মতামতকে আর আগের মতো গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং তারা সমাজে প্রায় গৌণ বিবেচিত হন। তাদের পাশে বসে কথা বলার সময়ও যেন কারও নেই।
শহরের একটি বস্তিতে বসবাসকারী রহিমা বেগম (৬০) তার পরিবারের বোঝা হিসেবে বিবেচিত হন। তার সন্তানরা তাকে দেখাশোনা করতে চায় না এবং প্রায়শই তাকে অবহেলা করে। রহিমা বেগম অসুস্থ হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পান না এবং ঔষধ কেনারও সামর্থ্য তার নেই। তিনি মনে করেন, তার মতো অসহায় প্রবীণদের জন্য সমাজে কোনো স্থান নেই।
জনাব মাজেদ সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তিনি বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কল্যাণ সমিতির সদস্য। এই সমিতি তাকে স্বাস্থ্য অনুদান ও বিনা সুদে ঋণ প্রদান করে থাকে। মাজেদ সাহেব মনে করেন, এই ধরনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রবীণদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
জনাব আলী সাহেব একজন কৃষক। তার বয়স ৬৫ বছর এবং তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তার নিজের কোনো আয় নেই এবং সন্তানদের উপর নির্ভরশীল। তার পরিবারে পর্যাপ্ত খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব রয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকার যদি অসহায় প্রবীণদের জন্য আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা দিত, তবে তার মতো অনেকেই ভালো জীবনযাপন করতে পারত।
জনাব হাসান একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। তিনি তার অবসরকালীন সময়ে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে চান। তিনি মনে করেন, প্রবীণদের অভিজ্ঞতা সমাজের জন্য মূল্যবান এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সমাজের অগ্রগতিতে সাহায্য করবে। কিন্তু অনেক সময় প্রবীণদের মতামতকে সমাজে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
জনাব কামাল সাহেব তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সাথে একান্নবর্তী পরিবারে বসবাস করেন। তিনি তার বাবা-মায়ের সকল সুবিধা-অসুবিধা দেখেন এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেন। তার বাবা-মা অবসরপ্রাপ্ত এবং তাদের নিজস্ব আয় নেই। কামাল সাহেব তাদের অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণ করেন এবং তাদের শারীরিক সুস্থতার দিকেও খেয়াল রাখেন। তিনি মনে করেন, প্রবীণদের সম্মান করা এবং তাদের দেখাশোনা করা সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব।
মিসেস আয়েশা তার শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজ বাড়িতে রেখে যত্নের সাথে দেখাশোনা করেন। তিনি মনে করেন, প্রবীণদের সেবা করা সন্তানের কর্তব্য। কিন্তু তার অনেক প্রতিবেশী তাদের বৃদ্ধ বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসেন বা তাদের দেখাশোনার ভার কাজের লোকের উপর ছেড়ে দেন। আয়েশা বেগম মনে করেন, সমাজে প্রবীণদের প্রতি এই ধরনের মনোভাব পরিবর্তন হওয়া দরকার।
৮০ বছর বয়সী জনাব রহমান একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তিনি তার অবসর ভাতা দিয়ে মোটামুটি ভালোভাবে চলেন। কিন্তু তার স্ত্রী গত হয়েছেন এবং তার ছেলেমেয়েরা বিদেশে থাকে। তিনি প্রায়ই নিঃসঙ্গ বোধ করেন এবং তার মনে হয় সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে প্রবীণদের প্রতি সম্মান কমে গেছে।
জনাব করিম, একজন ৮৫ বছর বয়সী প্রবীণ ব্যক্তি, তার ছেলেমেয়ের সাথে থাকেন। তার ছেলে ও ছেলের বউ উভয়ই কাজ করেন এবং তাদের ব্যস্ততার কারণে জনাব করিমের সাথে কথা বলার বা তাকে সঙ্গ দেওয়ার সময় পান না। জনাব করিম প্রায়শই একা থাকেন এবং নিঃসঙ্গ বোধ করেন। তার স্মৃতিবিভ্রমও দেখা দিয়েছে।
জনাব কামাল একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তিনি তার অবসর ভাতা নিয়মিত পান। তিনি তার অবসর জীবনেও সমাজের জন্য কিছু করতে চান। তিনি দেখলেন তার এলাকার প্রবীণরা নানা সমস্যায় ভুগছেন, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ও চিত্তবিনোদনের অভাব প্রকট।
রফিক সাহেব (৭০) একজন গ্রামীণ অসহায় ও দরিদ্র প্রবীণ। তিনি কাজ করতে পারেন না এবং তার কোনো সঞ্চিত অর্থও নেই। তার ছেলেমেয়েরা তাকে ভরণ-পোষণ করতে পারে না। তিনি প্রতিমাসে সরকার থেকে সামান্য কিছু অর্থ পান।
আনোয়ারা বেগম (৭২) একজন অসুস্থ প্রবীণ। তার ছেলেমেয়েরা তাকে পর্যাপ্ত সেবাযত্ন দিতে পারে না কারণ তারা দুজনেই কর্মজীবী। তিনি প্রায়শই অনুভব করেন যে তার শারীরিক কষ্ট এবং একাকীত্ব তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিচ্ছে।
মিতা (৬০) একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তিনি তার অবসরকালীন সময়ে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মনে করেন, প্রবীণদের উচিত সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখা।
শিক্ষিকা রুবিনা বেগম (৫৫) সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের দ্বারপ্রান্তে। তিনি শুনেছেন, সরকারি কর্মচারীরা অবসর গ্রহণ করলে পেনশন পেয়ে থাকেন। তিনি জানতে চান, এই সুবিধাটি প্রবীণদের কল্যাণে কীভাবে কাজ করে।
একটি বেসরকারি সংস্থা 'বৃদ্ধ নিবাস' প্রবীণদের কল্যাণে কাজ করছে। তারা প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা দান, পুনর্বাসন, চিত্তবিনোদন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন এবং পাঠাগার সুবিধা প্রদান করে।