বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস।
আবহাওয়া হলো কোনো একটি অঞ্চলের এক দিন বা দিনের কোনো বিশেষ সময়ের বাতাসের তাপ, চাপ, আর্দ্রতা। অন্যদিকে, জলবায়ু হলো কোনো অঞ্চলের ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় আবহাওয়া। আবহাওয়া প্রতিদিন, এমনকি ঘণ্টায় ঘণ্টায় বদলাতে পারে, কিন্তু জলবায়ু সহজে বদলায় না।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণ হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, বায়ুমণ্ডলে কিছু গ্যাসের অতিরিক্ত সঞ্চারণ, যা মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফল, এই সমস্যার মূল কারণ। এই গ্যাসগুলো হলো গ্রিনহাউস গ্যাস (যেমন কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন)। বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের অতিরিক্ত মাত্রায় সঞ্চারের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, যাকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলে। উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ অস্বাভাবিকভাবে গলে যাচ্ছে। এই বরফগলা জলরাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণাংশের নিম্নাঞ্চলসহ পৃথিবীর সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলো ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির জন্য মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডই সবচেয়ে বেশি দায়ী। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প-কারখানার উৎপাদন, বিদ্যুৎ ব্যবহার, যানবাহনের তেল ও গ্যাসের ধোঁয়া, ইটের ভাটা প্রভৃতি থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা মানুষের তৈরি গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া, বনভূমি ধ্বংসের কারণেও পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ গাছপালা কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে। মানুষের জীবনযাত্রা পরিবর্তন, ভোগ-বিলাসিতা এবং উন্নয়নের নামে পরিবেশের প্রতি অসচেতনতা গ্রিনহাউস গ্যাস সঞ্চারের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। উন্নত দেশগুলো যে পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে, তা পরিবেশের বিপর্যয় ঘটাচ্ছে, যদিও তার ফল উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বেশি ভোগ করতে হয়। সুতরাং, গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির জন্য মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের দায়বদ্ধতা অনস্বীকার্য।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 6: বাংলাদেশের জলবায়ু › Topic: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ
Aligned to the NCTB national curriculum.