বেগম রোকেয়া সমাজের নারী ও পুরুষকে একটি গাড়ির দুটি চাকার সাথে তুলনা করেছেন।
জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। সমাজের এই বৃহৎ অংশকে পিছিয়ে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী-পুরুষ সমানতালে কাজ করলে সমাজের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতিসহ সকল ক্ষেত্রে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং নারীরা মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বিবেচিত হন।
ফারজানার বাবা-মায়ের মনোভাব সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাধা সৃষ্টি করছে। তাদের এই মনোভাব কন্যাশিশুকে বোঝা মনে করা এবং পুত্রসন্তানের চেয়ে কম গুরুত্ব দেওয়ার প্রচলিত ধারণার প্রতিফলন। তারা মনে করেন মেয়েদের উচ্চশিক্ষা বা চাকরির দরকার নেই, বরং অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া উচিত। এই দৃষ্টিভঙ্গি নারীর শিক্ষা লাভের অধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার এবং সরকারি চাকরি লাভে সমান অধিকারকে সরাসরি অস্বীকার করে। এটি সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতিকে দুর্বল করে এবং তাদের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করে।
ফারজানার মতো মেয়েদের অধিকার আদায়ে শিক্ষা ও সচেতনতা অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে। শিক্ষা নারীকে আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী করে তোলে। ফারজানা যদি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, তবে সে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবে এবং কর্মজীবনে প্রবেশ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে। এটি তার পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনেও সাহায্য করবে। পাশাপাশি, সমাজের সকল স্তরে নারী অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি। বিভিন্ন সভা-সমিতি, গণমাধ্যম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে। নারীরা যখন তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে, তখন তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে পারবে এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারবে। শিক্ষিত, স্বাবলম্বী ও সচেতন নারী ঘরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: বাংলাদেশে প্রবীণদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম (বেসরকারি ও সরকারি)
Aligned to the NCTB national curriculum.