নারী অধিকার হলো নারীর জন্য প্রদত্ত সেই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা, যা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
নারীর প্রতি বৈষম্য দূর ও তার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কর্তৃক গৃহীত দুটি বিশেষ ব্যবস্থা হলো: উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা এবং সন্তানের পরিচয় নির্ধারণে পূর্বে যেখানে শুধু বাবার নাম লেখার নিয়ম ছিল, বর্তমানে সেখানে মায়ের নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
রহিম সাহেবের পরিবারের ঘটনা সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতির সেই দিকটি তুলে ধরে যেখানে অনেক পিতামাতা কন্যাশিশুকে বোঝা হিসেবে গণ্য করে এবং পুত্রসন্তানকে কন্যাসন্তানের চেয়ে অধিক গুরুত্ব দেয়। এর ফলে কন্যাসন্তান শিক্ষা লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং কম বয়সে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়, যা নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের একটি উদাহরণ।
রহিম সাহেবের মতো পরিবারগুলোর মনোভাব পরিবর্তনে এবং কন্যাশিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে সামাজিক আন্দোলন ও আইনগত উভয় পদক্ষেপই নেওয়া যেতে পারে। সামাজিকভাবে, কন্যাশিশুদের গুরুত্ব ও সক্ষমতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও সফলতার গল্প তুলে ধরতে হবে। আইনগতভাবে, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং শিক্ষা লাভের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কর্তৃক গৃহীত উপবৃত্তি ও বিনা বেতনে পড়ার সুযোগের মতো কর্মসূচিগুলো আরও বিস্তৃত করতে হবে। পিতা-মাতার জন্য কন্যাশিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যেতে পারে এবং এর লঙ্ঘন করলে শাস্তির বিধান রাখা যেতে পারে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: বাংলাদেশে প্রবীণদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম (বেসরকারি ও সরকারি)
Aligned to the NCTB national curriculum.