অধিকার ব্যতীত মানুষ তার ব্যক্তিত্বকে উপলব্ধি করতে পারে না।
প্রবীণদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সমস্যার দুটি কারণ হলো: সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয়, নৈতিক শিক্ষার অভাব এবং বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব, আত্মকেন্দ্রিক মনোভাবের প্রসার।
রাশেদ সাহেবের ইচ্ছা প্রবীণদের 'অংশগ্রহণ সংশ্লিষ্ট অধিকার' এবং 'উন্নয়ন ও মর্যাদা সংশ্লিষ্ট অধিকার'-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অংশগ্রহণ সংশ্লিষ্ট অধিকারের মধ্যে স্বাস্থ্য ও সাধ্য অনুযায়ী সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণের অধিকার এবং সংগঠন গড়ে তোলা ও আন্দোলনে অংশগ্রহণের অধিকার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও, নিজেদের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশের সুযোগ সৃষ্টির অধিকারও তার ইচ্ছার সাথে মিলে যায়। তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক কাজকর্মে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে সমাজের প্রতি তার অবদান রাখতে চান।
প্রবীণদের অবসর যাপন ও চিত্তবিনোদনের সুযোগ সৃষ্টিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, স্থানীয় পর্যায়ে কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে প্রবীণদের জন্য বিশেষ ক্লাব বা সমিতি গঠন করা যেতে পারে, যেখানে তারা গল্পগুজব, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, পাঠাগার, পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে প্রবীণদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও ছাড়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রবীণদের জন্য শিক্ষামূলক ভ্রমণ বা তীর্থযাত্রার আয়োজন করতে পারে। চতুর্থত, প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের মতো সংস্থাগুলো তাদের চিত্তবিনোদন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপনের সুযোগ আরও বাড়াতে পারে। এসব উদ্যোগ প্রবীণদের নিঃসঙ্গতা দূর করে তাদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: প্রবীণ অধিকারের ধারণা ও প্রবীণদের অধিকারসমূহ
Aligned to the NCTB national curriculum.